যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উল্টো এই সংঘাত ইরানকে আরো দৃঢ়, সংগঠিত এবং ঝুঁকি গ্রহণে আগের চেয়ে বেশি সক্ষম রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করা, সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করা এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণে আনা। তবে বাস্তবে এসব লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বরং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন আরো সুদৃঢ় হয়েছে।
বিশেষ করে দেশটির প্রভাবশালী সামরিক সংস্থা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ক্ষমতা ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে এই পুনর্গঠন ইরানকে আরো কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দিকে নিয়ে গেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়, সংঘাতের ফলে তেহরান এখন কেবল অভ্যন্তরীণভাবে নয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে। বহিরাগত চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক হুমকি মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত প্রত্যাশার বিপরীতে এই যুদ্ধ ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ভেঙে না দিয়ে বরং আরো সুসংহত করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন নতুন এক ভারসাম্যহীন বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে ইরান আগের তুলনায় বেশি ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান এখন প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থান থেকে অনেক ক্ষেত্রে সক্রিয় কৌশলগত অবস্থানে চলে এসেছে, যা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে আরো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
সানা/ডিসি/আপ্র/১৪/৬/২০২৬