মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি এসেছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পা থেকে। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে। তবে দলের ড্র’য়ের রাতে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে মোটেও সন্তুষ্ট নন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ভিনিসিয়ুস অকপটে স্বীকার করলেন, তিনি নিজের সেরা ফর্মে ছিলেন না। ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘আমি গোল পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি নিশ্চিত যে আমার পারফরম্যান্স শতভাগ নিখুঁত ছিল না।
আমি জানি আমি আরও অনেক ভালো করতে পারি এবং আক্রমণভাগে ব্রাজিলকে আরও বেশি সহায়তা করতে পারি। তবে দলের রক্ষণভাগের কাজে আমি খুশি, প্রত্যেকেই অসাধারণ পরিশ্রম করেছে।’
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে স্নায়ুচাপের বিষয়টিও ছিল স্পষ্ট। দলের সতীর্থদের স্নায়ুবিক দুর্বলতা প্রসঙ্গে ভিনি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচ সব সময়ই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ।
বিশ্বকাপের শুরুর দিকের চাপটা কিছুটা হলেও আমাদের ওপর প্রভাব ফেলেছিল। শুরুতে গোল হজম করার পর আমাদের দ্রুত মানিয়ে নিতে হয়েছে এবং খেলার ধরনেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে।’
ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের পরিবেশ ও মাঠের কন্ডিশন নিয়েও নিজের অসন্তোষের কথা গোপন করেননি এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
তার মতে, গরমের কারণে মাঠের ঘাস দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় বলের গতি কমে আসছিল, যা তাদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘মাঠের কন্ডিশন আমাদের খেলার ছন্দে প্রভাব ফেলেছে।
আমরা চেয়েছিলাম বল দ্রুত এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিয়ে যেতে, কিন্তু সেটা করা কঠিন ছিল। তবে সব দলের জন্যই যেহেতু একই মাঠ, তাই আমাদের এটি মেনেই মানিয়ে নিতে হবে।’
মরক্কোকে একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ভিনিসিয়ুস যোগ করেন, ‘মরক্কো দারুণ একটি দল। আমরা জানতাম ম্যাচটি কঠিন হবে, কারণ তারা দীর্ঘ সময় ধরে একসাথে খেলছে এবং সম্প্রতি আফ্রিকা কাপ অফ নেশন্সের ফাইনালেও খেলেছে।
তাদের যথেষ্ট যোগ্যতা আছে।’ ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তনের বিষয়ে ভিনি জানান, কোচ কার্লো আনচেলোত্তির নির্দেশে প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে রাফিনহা যখন পজিশন পরিবর্তন করেন, তখনই তারা মাঠের স্পেস খুঁজে পেতে শুরু করেন এবং আক্রমণের ধার বাড়ে।
ভিনিসিয়ুসের কণ্ঠে এখন শুধুই উন্নতির প্রত্যয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য আরও বেশি তৈরি হতে হবে। আমরা জানি উন্নতির অনেক জায়গা আছে, এবং টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে আমাদের এই ছন্দেই বিবর্তিত হতে হবে।’
ডিসি/আপ্র/১৪/০৬/২০২৬