কেউ কেউ রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভাজন ছড়ানোর জন্য ‘ষড়যন্ত্রের প্রকল্প’ হাতে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, সরকার এসব বিষয়ে সচেতন রয়েছে এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ও আমরা বিএনপি পরিবারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত **‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর: চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’** শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অনেকের কাছে সংসদের চেয়ে রাজপথই বেশি পছন্দের হয়ে উঠেছে। সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে নিয়ে এসে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বিরোধ তৈরি করার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “সরকার এই ষড়যন্ত্রের গভীরতা বোঝে না-এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। আমরা বুঝি বলেই দায়িত্বশীল আচরণ করি। আমরা বুঝি বলেই অভিভাবকের মতো ভাষায় কথা বলি এবং গঠনমূলক সমাধানের পথ খুঁজি।”
তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রতিক্রিয়াশীল বক্তব্য, উত্তেজনা সৃষ্টি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরির কাজে সরকার নিজেদের দায়িত্ব নিয়োজিত করতে পারে না। জনগণ যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে, তখন সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর এখন দেশ গঠনের সময় এসেছে। যারা দেশ গঠনের পথে বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের সঙ্গে প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “রাষ্ট্রের প্রয়োজন, দেশের প্রয়োজন ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতেই হবে।”
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আন্দোলন কারও কারও কাছে পেশা হতে পারে, কিন্তু তাদের কাছে আন্দোলনের অর্থ ছিল ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক চেতনা এবং স্বাধীন, স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াই। সেই আন্দোলনের একটি অধ্যায় শেষ হয়েছে, এখন সামনে দেশ গড়ার দায়িত্ব।
নির্বাচন ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গ: ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো ব্যক্তির নয়, এটি জনগণের অর্জন। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে তরুণ ও সংগ্রামী মানুষকে সাহস জুগিয়েছে বিভিন্ন স্লোগান। এর মাধ্যমে রাজপথের আন্দোলন শক্তিশালী হয়েছে এবং একপর্যায়ে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে। জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামালসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
তিন দিনব্যাপী এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/০১/৮/২০২৬