রাষ্ট্র সংস্কারে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের রায় ও প্রত্যাশাকে সম্মান না করলে তার পরিণতির নজির ইতিহাসে রয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় কুদরত উল্লাহ মসজিদ কমপ্লেক্সে স্থানীয় দৈনিক জালালাবাদ আয়োজিত সুধী সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা প্রত্যাশার একটি গণভোট পেয়েছিলাম। জাতিকে বদলে দেওয়ার ভোট ছিল সেটি। তখন কেউ সরকারি দল, বিরোধী দল, বিএনপি বা জামায়াত ছিল না; সবাই গণভোটের পক্ষে কথা বলেছে।” তিনি বলেন, “হঠাৎ করে অবস্থান পরিবর্তন হলো কেন? দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার পর যদি কেউ মনে করেন এখন যা ইচ্ছা করা যাবে, গণভোট বা জনগণের রায় মানার প্রয়োজন নেই-তাহলে তা হবে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা। ভোট ও জনরায়কে সম্মান না করলে কী হয়, তার নজির এ দেশেও আছে, বিশ্ব ইতিহাসেও আছে।”
জামায়াতের আমির বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের সবকিছু থেকে বেরিয়ে নতুন একটি জাতির উত্থানের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সরকার এখনো সেই পথে এগোচ্ছে না বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, “এটা শুধু আমাদের কথা নয়, সরকারি দলের মহাসচিবও বলেছেন, সরকার গঠনের পর কিছু বদলায়নি। তিনি দুর্নীতি বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন। আমরা যে বিষয়গুলো বলে আসছিলাম, তারাই এখন সেসব কথা বলছেন।”
সরকারের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু কোনো একটি দলের ভোটারদের নন, তিনি পুরো দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, “স্বয়ং স্পিকারও বলেছেন, চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে জাতির সামনে বড় অশনি সংকেত তৈরি হতে পারে।”
সব বিষয়কে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখতে চান না জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “ষড়যন্ত্র যে নেই, সেটিও আমরা বলতে চাই না। সবকিছু মিলিয়েই বাস্তবতা তৈরি হয়। তবে বিএনপিও তো দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মজলুমের কষ্ট মজলুমই বোঝে।” তিনি বলেন, দেশ আবার যেন চোরাবালিতে হারিয়ে না যায়, অন্ধকার পথে না ঢোকে। জুলাইয়ের আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করতে হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম সমাজকে সচেতন রাখে এবং মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা মুকতাবিস উন নূর, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রব, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/০১/৮/২০২৬