গ্রুপ পর্বের তিন প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া এগিয়ে থাকায় পথ যে কণ্টকাকীর্ণ, তা ভালো করেই জানেন জামাল ভূঁইয়া। তবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক বরাবরই আত্মবিশ্বাসী এবং ভালো কিছু করার ব্যাপারে আশাবাদী।
ফিফা আসিয়ান কাপের লক্ষ্য জানাতে গিয়ে প্রত্যয়ের সুরে তিনি বললেন, স্রেফ অংশ নেওয়ার জন্য খেলতে যাচ্ছেন না তারা। বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ে ইন্দোনেশিয়া ১১৮তম, মালয়েশিয়া ১৩৬তম, সিঙ্গাপুর ১৪৮তম এবং বাংলাদেশ ১৮১তম। জামাল তাই মেনে নিলেন, পরের ধাপে যাওয়ার পথটা তাদের জন্য মোটেও মসৃণ নয়। নিজেদের সম্ভাবনার প্রশ্নে অধিনায়ক টানলেন ২০১৮ এশিয়ান গেমসে সবাইকে চমকে দিয়ে গ্রুপ পর্ব পেরোনোর সেই সুখস্মৃতির প্রসঙ্গ।
“আমরা জানি, কাজটা কঠিন হবে। ইন্দোনেশিয়া আর মালয়েশিয়া দুই দল অনেক শক্তিশালী। কিন্তু ২০১৮-এ আমরা যখন ইন্দোনেশিয়ায় ছিলাম (এশিয়ান গেমস খেলতে), আমার মনে হয়, সেবার আমাদের গ্রুপে উজবেকিস্তান, থাইল্যান্ড আর কাতার ছিল। তো ওই সময় কেউ ভাবেনি আমরা কোয়ালিফাই করব। কিন্তু আমরা কোয়ালিফাই করেছিলাম। শেষ ষোলোতে গিয়েছিলাম। ওই সময় তো কেউ ভাবেনি আমরা কোয়ালিফাই করব, তো এবারও সেই একই ঘটনা ঘটতে পারে।”
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে হার দিয়ে বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করে। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার পর কাতারকে ১-০ গোলে হারায় দলটি। যোগ করা সময়ে ব্যবধান গড়ে দেন জামাল।
রানার্সআপ হয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। সেখানে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে হেরে বিদায় নেয় দল। সেই অর্জনই এবার আশাবাদী করে তুলছে অধিনায়ককে। আগামী শুক্রবার মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্ব শুরু করবে বাংলাদেশ।
২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে দল। এই টুর্নামেন্টে খেলতে শনিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে বাংলাদেশ।
ঢাকায় শেষ দিনের অনুশীলনের ফাঁকে আসিয়ান কাপ নিয়ে নিজের ভাবনা, পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা তুলে ধরলেন জামাল।
কোচ টমাস ডুলি বাস্তবতার মাটিতে পা রেখে বড় স্বপ্ন দেখতে না চাইলেও অধিনায়ক জামালের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই একটুও। “আসলে মানুষের তো অনেক বেশি প্রত্যাশা আছে আমাদের নিয়ে। সত্যি বলতে, অবশ্যই সবাই জিততে চায়।
কিন্তু আমি মনে করি, কোচ বেশি প্রত্যাশা না করার কথা বলেছেন র্যাঙ্কিং দেখে, এই গ্রুপে আমরা সবচেয়ে নিচের র্যাঙ্কিংয়ের দল।
হয়তো একারণেই এরকম বলেছেন, এটা আসলে আমি বলতে পারি না (ঠিক কী কারণে বলেছেন), কিন্তু আমি মনে করি, র্যাঙ্কিংয়ের কারণে তিনি এমনটা বলেছেন। “অবশ্যই আমরা কোয়ালিফাই করতে চাই। আপনাকে তো প্রত্যাশা করতেই হবে।
একটা টুর্নামেন্টে আপনি এই মনোভাব নিয়ে যেতে পারেন না যে, আমরা এখানে স্রেফ অংশ নেওয়ার জন্য এসেছি; না, এরকম না। সবার কাছে প্রত্যাশা আছে, আমার কাছেও প্রত্যাশা আছে এবং আমি মনে করি, দলে যারা আছে, তাদের সবার আকাঙ্ক্ষা আছে পরের রাউন্ডে যাওয়ার।”
ডিসি/আপ্র/১৯/০৩/২০২৬