গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ঢাকায় ছয় বছরে সড়কে ঝরেছে ১ হাজার ৩৮৪ প্রাণ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:০৪ পিএম, ০১ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০৫:৩৮ এএম ২০২৬
ঢাকায় ছয় বছরে সড়কে ঝরেছে ১ হাজার ৩৮৪ প্রাণ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার সড়কে গত ছয় বছরে প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজার ৩৮৪ জন। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে রাজধানীতে এক হাজার ৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই হাজার ৪৮৮ জন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (১ আগস্ট) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৩৪ জন, নারী ২১৯ জন এবং শিশু ১৩১ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন পথচারী। গত ছয় বছরে সড়কে প্রাণ হারানো মানুষের মধ্যে ৫৯২ জন ছিলেন পথচারী। এছাড়া মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন ৫৩৬ জন। বাস, রিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের চালক ও যাত্রী নিহত হয়েছেন ২৫৬ জন।

রাতে দুর্ঘটনার হার বেশি: দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে রাতে। রাতের সময়ে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫১৯ জন, যা মোট নিহতের ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এরপর সকালে ২৫৮ জন (১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ), দুপুরে ১৯৫ জন (১৪ দশমিক ৮ শতাংশ), বিকালে ১৭৪ জন (১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ), ভোরে ১৪২ জন (১০ দশমিক ২৬ শতাংশ) এবং সন্ধ্যায় ৯৬ জন (৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।

সংস্থাটি বলছে, রাজধানীতে বাইপাস সড়ক না থাকায় রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত ভারী মালবাহী যানবাহনগুলো নগরীর সড়কে দ্রুতগতিতে চলাচল করে। এ সময় রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে পথচারীরা বেশি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

ভারী যানবাহন ও মোটরসাইকেল বেশি জড়িত: রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত ছিল ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাক। এসব যানবাহন দুর্ঘটনার ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশের সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া মোটরসাইকেল ২৬ শতাংশ, বাস ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ, অটোরিকশা, সিএনজি ও লেগুনা ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও জিপ ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।

দুর্ঘটনার পেছনে নানা কারণ: দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, দীর্ঘ যানজটের কারণে চালকদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহীনতা বাড়ছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।

সংস্থাটির মতে, রাজধানীতে যানবাহনের তুলনায় সড়ক অপ্রতুল। একই সড়কে যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক, ধীর ও দ্রুতগতির যানবাহনের চলাচল, ফুটপাত দখল, প্রয়োজনীয় স্থানে ফুটওভার ব্রিজ না থাকা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতাও দুর্ঘটনার বড় কারণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড ও বিমানবন্দর সড়ক রাজধানীর দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলার তাগিদ: রাজধানীর সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক বাসসেবা চালুর পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন এবং ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সানা/কেএমএএ/আপ্র/০১/৮/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাত আসাম...

বাক্স্বাধীনতা নিয়ে মাহদীর দাবি, টিআইবির তথ্যে ভিন্ন চিত্র
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাক্স্বাধীনতা নিয়ে মাহদীর দাবি, টিআইবির তথ্যে ভিন্ন চিত্র

‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা’ শীর্ষক আলোচনা

হাসিনাকে চাইছি, কাদেরসহ অন্যদের চাইব না কেন
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাসিনাকে চাইছি, কাদেরসহ অন্যদের চাইব না কেন

ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

দুই টার্মিনালে সক্ষমতার ৯০ শতাংশ এলএনজি, সরবরাহ ২৬১০
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই টার্মিনালে সক্ষমতার ৯০ শতাংশ এলএনজি, সরবরাহ ২৬১০

মহেশখালীর দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়ায় দেশে গ্যাসের মোট সরবরাহ বেড়ে দৈনিক ২ হাজার ৬...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই