ফিফার বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার বিতর্কিত পরিকল্পনায় নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই দিনে ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পরিকল্পনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় ফিফা।
শুক্রবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘না, আমি এ বিষয়ে তার (ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো) সঙ্গে কখনো কথা বলিনি।’
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো পরিকল্পনাটি বাতিলের ঘোষণা দেন। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে বিশ্বকাপের স্বত্ব ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রভাব ছিল কি না—তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল।
বিতর্কিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিফার ২১১টি সদস্য দেশকে ৪ কোটি ডলার করে অনুদান দেওয়ার বিনিময়ে পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ সংস্থাটির প্রধান টুর্নামেন্টগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগের পথ খুলে দেওয়ার সমর্থন চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯ সেপ্টেম্বর।
প্রস্তাব প্রকাশের পরই ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা তা প্রত্যাখ্যান করে এবং প্রয়োজনে বিশ্বকাপ বর্জনেরও হুঁশিয়ারি দেয়। পরে উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও একই অবস্থান নেয়। এরপর এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও উদ্বেগ প্রকাশ করলে ফিফার ওপর চাপ আরও বাড়ে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ফিফা প্রথমে দাবি করেছিল, পরিকল্পনাটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তবে সদস্য কনফেডারেশনগুলোর ধারাবাহিক আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় সংস্থাটি।
পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণা দিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, আগামী দিনগুলোতে তিনি সব পক্ষকে আবার এক টেবিলে আনার চেষ্টা করবেন। তার ভাষায়, ‘আমাদের সবার অভিন্ন স্বার্থ ফুটবলের উন্নয়ন। বিশেষ করে যেসব দেশে সহায়তার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, সেখানে ফুটবলের বিকাশে একসঙ্গে কাজ করাই হবে আমাদের লক্ষ্য।’
এসি/আপ্র/০১/০৮/২০২৬