গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬

মেনু

ইরান যুদ্ধের ১০০ দিন পূর্ণ, চাপ বাড়ছে ট্রাম্পের ওপর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:০৬ পিএম, ০৮ জুন ২০২৬ | আপডেট: ০২:১৯ এএম ২০২৬
ইরান যুদ্ধের ১০০ দিন পূর্ণ, চাপ বাড়ছে ট্রাম্পের ওপর
ছবি

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘর্ষের মধ্যে তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন জ্বলছে। গত ২ মার্চের ফাইল ছবিটি রয়টার্সের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধ রোববার (৭ জুন) ১০০ দিন পূর্ণ করেছে। এই সময়ে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি। মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘায়িত যুদ্ধ এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান পার্টিকে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তিতে ফেলেছে।

আল-জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগেই মার্কিন জনমত জরিপে ইরানে হামলার বিরোধিতা স্পষ্ট ছিল, যা যুদ্ধ শুরুর পরও বদলায়নি। অধিকাংশ নাগরিকই মনে করেন, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে নয় এবং এটি অপ্রয়োজনীয়।

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক শিবলি তেলহামি বলেন, “খুব কম মার্কিন নাগরিকই মনে করেন এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের কোনো লাভ করছে।”

তিনি বলেন, জনসমর্থনের এই ঘাটতি এখন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় প্রভাব ফেলছে, যা ভবিষ্যতে ট্রাম্পের অবস্থানকে আরো দুর্বল করতে পারে।

মার্কিন জনমতের চাপ ও রাজনৈতিক প্রভাব: জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৬ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে বা জয়ের পথে আছে। অন্যদিকে রিপাবলিকান ভোটারসহ অধিকাংশই মনে করেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের তুলনায় নেতিবাচক প্রভাব বেশি ফেলছে।

অন্য একটি জরিপে দেখা যায়, মাত্র ১২ শতাংশ মানুষ যুদ্ধের প্রভাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, যেখানে রিপাবলিকানদের মধ্যেও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মনোভাব রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ট্রাম্পের জন্য উদ্বেগজনক।

তেলহামি বলেন, “রিপাবলিকানদের মধ্যেও এখন ধারণা তৈরি হচ্ছে যে এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।”

যুদ্ধের বিস্তার ও কৌশলগত অচলাবস্থা: গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ে।

এপ্রিলের শুরুতে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে মাঝেমধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা নৌ অবরোধ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন একাধিকবার দাবি করেছে, শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তবে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান বা বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হয়নি।

অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ চাপ: হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব সরাসরি মার্কিন ভোক্তাদের জীবনে পড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, এই যুদ্ধ জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, ৫৮ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের যুদ্ধ ব্যবস্থাপনা সমর্থন করেন না।
বিশ্লেষক জনাথন গাইয়ার বলেন, যুদ্ধটি এখন “অত্যন্ত অজনপ্রিয়” এবং এটি কেবল পররাষ্ট্রনীতি নয়, বরং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির বিষয়েও পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি এখন মানুষের পকেটের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দূরের কোনো সংঘাত নয়, এর প্রভাব সরাসরি জীবনযাত্রায় পড়ছে।”

ট্রাম্পের অবস্থান ও বিতর্ক: ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই তাঁর মূল লক্ষ্য। তিনি অর্থনৈতিক চাপকে গুরুত্বহীন বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, তাঁর কাছে নির্বাচনী রাজনীতির চেয়ে নিরাপত্তা অগ্রাধিকার। তিনি এক বক্তব্যে বলেন, “আমি কারও আর্থিক অবস্থা নিয়ে ভাবি না। আমি শুধু চাই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না পাক।”
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অবস্থান অভ্যন্তরীণ চাপ আরো বাড়াচ্ছে, বিশেষ করে যখন জ্বালানির দাম ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিবলি তেলহামি বলেন, ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ার চেষ্টা করলেও বাস্তবে তিনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানির দাম আরো বাড়বে, যা রিপাবলিকান পার্টির ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।”

নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব: বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে ট্রাম্পের নীতিগত উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তেলহামির মতে, পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে অভিশংসনের মতো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও সামনে আসতে পারে। তিনি বলেন, “যদি রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারায়, ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে যাবে।”

সামগ্রিক চিত্র: ১০০ দিনের এই যুদ্ধ এখন কেবল সামরিক সংঘাত নয়, বরং একটি বহুমাত্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। জনমত, অর্থনৈতিক চাপ এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা-সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন একটি জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখন আর কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভোটের অংকেও নির্ধারিত হবে।
সানা/আপ্র/৮/৬/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, ককরোচ পার্টির আন্দোলন প্রত্যাহার
২৫ জুলাই ২০২৬

প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, ককরোচ পার্টির আন্দোলন প্রত্যাহ...

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর অব...

বিশ্ব বদলের সম্ভাবনায় বাংলাদেশি বিজ্ঞানী তনিমার স্বীকৃতি
২৫ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব বদলের সম্ভাবনায় বাংলাদেশি বিজ্ঞানী তনিমার স্বীকৃতি

বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী তনিমা তাসনিমকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় বিজ্ঞানীদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে...

সেপ্টেম্বরে সব সেবা বন্ধ করছে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বিটমেক্স
২৫ জুলাই ২০২৬

সেপ্টেম্বরে সব সেবা বন্ধ করছে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বিটমেক্স

বিশ্বব্যাপী ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারের দীর্ঘস্থায়ী মন্দার মধ্যে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে...

চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার নার্সের পাল্টা বিস্ফোরক অভিযোগ
২৫ জুলাই ২০২৬

চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার নার্সের পাল্টা বিস্ফোরক অভিযোগ

ভারতের রাজস্থানে দুই কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার এক নার্স আদালতে তোলার আগে এক চিকিৎসকের বি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

সাহাবুদ্দিন বর্তমান সরকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন

গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও মো. সাহাবুদ্দিন বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রতি সবসময় সমর্থন ও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে