ভারতের রাজস্থানে দুই কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার এক নার্স আদালতে তোলার আগে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শতাধিক নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, নার্সের এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো যাচাই হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, কমলা ওরফে কমলেশ নামে ওই নার্সকে শুক্রবার বারমের আদালতে হাজির করার আগে তিনি একটি ভিডিও বার্তা ধারণ করেন। সেখানে ৬৫ বছর বয়সী ওই চিকিৎসককে ‘ধারাবাহিক ধর্ষক’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ১০০ জনেরও বেশি নারীকে যৌন নির্যাতন করেছেন। তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসকের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন নারী রোগীও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
নার্সের দাবি, অতীতে কয়েকজন ভুক্তভোগী পুলিশের কাছেও অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসক প্রভাব ও অর্থের মাধ্যমে সেসব অভিযোগ ধামাচাপা দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার কারণেই তাঁকে ফাঁসাতে চাঁদাবাজির মামলা সাজানো হয়েছে।
ভিডিও বার্তায় তিনি আরো অভিযোগ করেন, হাসপাতালের দুই কর্মী চিকিৎসকের জন্য নারী জোগাড় করতে সহযোগিতা করতেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো সত্যতা নিশ্চিত করেনি। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নার্সের অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখা হচ্ছে, তবে এগুলো এখনো প্রমাণিত নয়।
এদিকে পুরো ঘটনার সূত্রপাত চিকিৎসকের দায়ের করা একটি অভিযোগ থেকে। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত নার্স ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে তাঁর ব্যক্তিগত হাসপাতালে প্রধানত রাতের শিফটে কাজ করতেন।
চিকিৎসকের দাবি, চা বানানোর অজুহাতে নার্স প্রায়ই হাসপাতালের চতুর্থ তলায় তাঁর ব্যক্তিগত কক্ষে যেতেন। একপর্যায়ে তিনি চিকিৎসকের অজান্তে তাঁর মোবাইল ফোন থেকে ব্যক্তিগত ছবি নিজের ফোনে স্থানান্তর করেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, পরে ওই নার্স ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার, ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর এবং হত্যার হুমকি দিয়ে চিকিৎসকের কাছে দুই কোটি টাকা দাবি করেন। নিজের ব্যক্তিগত সুনাম এবং হাসপাতালের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য চিকিৎসক কয়েক বছর ধরে তাঁকে অর্থ দিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
চিকিৎসকের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নার্সকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদ ও ডিজিটাল আলামত সংগ্রহের পর তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান।
ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। ফলে চিকিৎসক ও নার্স-উভয় পক্ষের অভিযোগই এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। সূত্র: ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৫/৭/২০২৬