গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

একযোগে ৫৮ বিধায়কের বিদ্রোহে চরম সংকটে মমতার তৃণমূল

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:০২ পিএম, ০৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২২:১৯ এএম ২০২৬
একযোগে ৫৮ বিধায়কের বিদ্রোহে চরম সংকটে মমতার তৃণমূল
ছবি

মমতা ব্যানার্জী -ফাইল ছবি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের পর এবার নজিরবিহীন ভাঙন ও সাংগঠনিক সংকটে পড়েছে মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। দলের ৮০ জন নির্বাচিত বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে পৃথক অবস্থান নেওয়ায় রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একই সময় দলটির সব শাখা, সংগঠন ও উপসংগঠন বিলুপ্ত করার ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।

বুধবার (৩ জুন) বিক্ষুব্ধ বিধায়কেরা রাজ্য বিধানসভায় উপস্থিত হয়ে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি উপস্থাপন করেন। সূত্র অনুযায়ী, স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া এক চিঠিতে মমতা ব্যানার্জীকে দলের সভানেত্রী পদে বহাল রাখা হলেও পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে তার নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এর পরিবর্তে উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নতুন পরিষদীয় দলনেতা করার কথা বলা হয়েছে।

নতুন পরিষদীয় কাঠামোর প্রস্তাবে উপ-দলনেতা হিসেবে জাবেদ খান, সন্দীপন সাহা, শিউলি সাহা ও সাবিনা ইয়াসমিনের নাম এবং মুখ্য সচেতক হিসেবে আখতারুজ্জামানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একে একে বিধানসভায় পৌঁছান বিক্ষুব্ধ বিধায়কেরা। তবে তারা সংবাদমাধ্যমের সামনে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। অধিকাংশের দাবি, তারা ব্যক্তিগত কাজে বিধানসভায় এসেছেন এবং দলীয় নেতৃত্ব নির্ধারণ দলই করবে।

তবে বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহা দাবি করেন, “আমাদের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত বিধায়কদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্য রয়েছেন।”

অন্যদিকে পাল্টা অবস্থান নেয় মমতা ব্যানার্জীর অনুগত শিবির। ওই দিনই বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে যান তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুনাল ঘোষ। তিনি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেন, যেখানে দাবি করা হয় মূল দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখনো তাদের কাছেই রয়েছে। তবে স্পিকার ওই চিঠি গ্রহণ না করে সেক্রেটারির টেবিলে রাখতে বলেন।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেসের সব কমিটি, সংগঠন ও উপসংগঠন ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, “গভীরভাবে পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গের সব কমিটি এবং সব শাখা সংগঠন অবিলম্বে বিলুপ্ত করা হলো।”

এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে দলের কোনো আনুষ্ঠানিক সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত আর অবশিষ্ট নেই। রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে অভ্যন্তরীণ সংকট আরো গভীর হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ৫৮ জন বিধায়কের সংগঠিত বিদ্রোহ, অন্যদিকে দলের সব কাঠামো ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত-এই দুই ঘটনা মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব মমতা ব্যানার্জীর হাতেই থাকে নাকি বিক্ষুব্ধ শিবির নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
সানা/আপ্র/৪/৬/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ফ্রান্সে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি
২০ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি

জ্বালানির বাড়তি দাম, জীবনযাত্রার ব্যয় আর সরকারি সেবার অবনতি নিয়ে শুরু হয়েছিল প্রতিবাদ। ধীরে ধীরে সে...

চীনে পুতিন, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের সম্ভাবনা
২০ অক্টোবর ২০২৬

চীনে পুতিন, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের সম্ভাবনা

আগামী মাসে চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লা...

যুদ্ধ ও সরবরাহ সংকটে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়তে পারে খাদ্যমূল্য
২০ অক্টোবর ২০২৬

যুদ্ধ ও সরবরাহ সংকটে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়তে পারে খাদ্যমূল্য

বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, যুদ্ধের কারণে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন, সার সরবরাহে সংকট এবং এল নিনোর প...

ফ্রান্সের মতো বিক্ষোভে উত্তাল ইতালিও, ১৪১ পুলিশ সদস্য আহত-গ্রেফতার ১৯৭
১৯ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সের মতো বিক্ষোভে উত্তাল ইতালিও, ১৪১ পুলিশ সদস্য আহত-গ্রেফতার ১৯৭

প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্সের মতো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইতালি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বের অন্য কোথাও নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে যখন হানাহানি ও হিংসার আগুন জ্বলছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষ্যে ঢাকার রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে