উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের শাসনামলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ধরণে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে বলে একটি মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, করোনা মহামারির পর দেশটিতে সাধারণ অপরাধের চেয়ে বাইরের বিশ্বের তথ্য, সংস্কৃতি, ধর্মচর্চা ও রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনকে কেন্দ্র করে মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সিউলভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ট্রানজিশনাল জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপের (টিজেডব্লিউজ) এক গবেষণায় বলা হয়, কিম জং উনের শাসনামলে পর্যালোচিত মৃত্যুদণ্ড মামলার মধ্যে শতাধিক ঘটনায় মোট কয়েকশ মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রযন্ত্র সাধারণ অপরাধ দমনের বদলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিদেশি তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে। দক্ষিণ কোরিয়ার নাটক, গান, বিদেশি চলচ্চিত্র দেখা কিংবা ধর্মচর্চার মতো কর্মকাণ্ড এখন মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সমালোচনা বা শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করাও কঠোর শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২০ সালে সীমান্ত কঠোরভাবে বন্ধ করার পর থেকে দেশটিতে মানুষের চলাচল, তথ্য ও পণ্যের প্রবাহ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই সময়ের পর মৃত্যুদণ্ড ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি সংস্কৃতি ও তথ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত অপরাধের কারণে মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা কয়েকগুণ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আগে যেখানে মৃত্যুদণ্ডের প্রধান কারণ ছিল হত্যাকাণ্ড, এখন তার জায়গায় এসেছে বিদেশি সংস্কৃতি গ্রহণ ও রাজনৈতিক ভিন্নমত প্রকাশ। একই সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার সমালোচনাও কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কিম জং উনের শাসনব্যবস্থার মূল ভয় এখন জনগণের বাইরের বিশ্বের তথ্য জানা এবং সেই তুলনা থেকে ভিন্ন বাস্তবতা কল্পনা করা। এই কারণেই তথ্য নিয়ন্ত্রণকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রধান অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সানা/ডিসি/১৯/৫/২০২৬