মশিউর রহমান চন্দন, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার গুপি রায়ের হাট ইজারা নিয়ে জেলাজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। পৌনে চার কোটি টাকার বেশি সম্ভাব্য মূল্যমানের এই হাট মাত্র সোয়া কোটি টাকায় ইজারা পাওয়াকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের গুপি রায়ের হাট জেলার অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট হিসেবে পরিচিত। প্রতি বুধবার বসা এ হাটে বিভিন্ন জেলা–উপজেলা থেকে ব্যাপক ক্রেতা–বিক্রেতার সমাগম ঘটে।
তথ্য অনুযায়ী, ১৪৩২ বঙ্গাব্দে হাটটির ইজারামূল্য ছিল ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টাকা। চলতি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে একই হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায়। এতে আগের বছরের তুলনায় আড়াই কোটির বেশি কম দামে ইজারা দেওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটটির প্রকৃত সম্ভাব্য আয় গোপন করা হয়েছে এবং প্রভাবশালী মহলের প্রভাবে কম দামে ইজারা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, সাধারণত প্রতি বছর হাটের ইজারামূল্য বাড়লেও এবার তা উল্টোভাবে কমেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিন দফা দরপত্র আহ্বানের নিয়ম থাকলেও প্রথম বিজ্ঞপ্তিতেই ইজারাদার নির্বাচন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এ হাট ইজারার সঙ্গে নাম এসেছে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান মোকাররম সর্দারের। তিনি ডিএমপির সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে প্রভাব খাটিয়ে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আড়ালে থাকলেও পরে আবার সক্রিয় হন এবং নিজেকে বিএনপি ঘরানার প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তি। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ইজারা ছিল ব্যতিক্রম। এবার কেউ বেশি দর না দেওয়ায় সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সানা/আপ্র/২০/৫/২০২৬