আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে তিন ধাপে বেতন ও ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ আমলে নিচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে নাসিমুল গনি–এর নেতৃত্বাধীন কমিটি সুপারিশ করেছে, প্রথম দুই অর্থবছরে মূল বেতনের বাড়তি অংশ ৫০ শতাংশ করে দেওয়া হবে এবং তৃতীয় বছরে নতুন হারে ভাতা কার্যকর হবে। আগামী ২১ মে এ বিষয়ে কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত দুই বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মো. মোস্তাকুর রহমান, মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও মো. আবদুর রহমান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী অর্থবছর থেকেই নতুন বেতনকাঠামোর বাস্তবায়ন শুরু হবে। তবে বাজেট ঘাটতি, রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বর্তমানে কোনো কর্মকর্তা যদি ৫০ হাজার টাকা মূল বেতন পান, নতুন কাঠামোয় তাঁর মূল বেতন হবে ১ লাখ টাকা। তবে প্রথম বছরে তিনি বাড়তি অংশের অর্ধেক পাবেন। অর্থাৎ জুলাই থেকে তাঁর মূল বেতন দাঁড়াবে ৭৫ হাজার টাকা। দ্বিতীয় বছরে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে এবং তৃতীয় বছরে নতুন হারে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হবে।
জাকির আহমেদ খান–এর নেতৃত্বাধীন নবম জাতীয় বেতন কমিশন গত জানুয়ারিতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–এর কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে বর্তমান সরকার গত ২৩ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে আগের মতোই ২০টি গ্রেড বহাল থাকবে।
বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। তবে আগামী অর্থবছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বাস্তবায়নে সরকারের বাড়তি ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
নতুন বেতনকাঠামোয় বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতা চালুর প্রস্তাবও রয়েছে।
পেনশনভোগীদের জন্যও বড় ধরনের সুবিধা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য ১০ হাজার টাকা, ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের জন্য ৮ হাজার টাকা এবং ৫৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং-এর নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেছেন, বেতন-ভাতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত। তবে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কার, দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সানা/আপ্র/২০/৫/২০২৬