গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

মেনু

ইন্টারনেট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে বাড়ছে ভয়াবহ দূষণ

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪৬ পিএম, ১৯ মে ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৪ এএম ২০২৬
ইন্টারনেট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে বাড়ছে ভয়াবহ দূষণ
ছবি

নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, স্যাটেলাইট বহনকারী রকেট উৎক্ষেপণের ফলে বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে বিপজ্জনক মাত্রায় দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে -ছবি সংগৃহীত

ইন্টারনেট সেবার জন্য মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর প্রতিযোগিতা এখন পৃথিবীর পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। 

নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, স্যাটেলাইট বহনকারী রকেট উৎক্ষেপণের ফলে বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে বিপজ্জনক মাত্রায় দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সসহ বিভিন্ন কোম্পানি ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মহাকাশে বিপুলসংখ্যক স্যাটেলাইট পাঠানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এসব বিশাল স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ককে বলা হচ্ছে ‘মেগাকনস্টেলেশন’। তবে এর ফলে শুধু মহাকাশে স্যাটেলাইটের জটলাজনিত সংঘর্ষঝুঁকিই বাড়ছে না, একইসঙ্গে বাড়ছে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কাও।

গবেষণায় বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সময় রকেট থেকে নির্গত ‘ব্ল্যাক কার্বন’ বা ঝুলকালি বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে জমা হচ্ছে। মাটিতে সৃষ্ট কালির তুলনায় এ ধরনের কালি অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী এবং পরিবেশের জন্য প্রায় ৫৪০ গুণ বেশি ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চলতি দশকের শেষদিকে মহাকাশ খাত থেকে সৃষ্ট মোট পরিবেশ দূষণের প্রায় ৪২ শতাংশই আসতে পারে এসব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কারণে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ দূষণের একটি দিক আপাতদৃষ্টিতে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক মনে হলেও এর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। কারণ, বায়ুমণ্ডলে জমা হওয়া কালির স্তর সূর্যের আলো পৃথিবীপৃষ্ঠে পৌঁছাতে আংশিক বাধা সৃষ্টি করে, যা পৃথিবীর উষ্ণতা কমাতে তথাকথিত ‘জিওইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মতো প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, মহাকাশ শিল্পে এ ধরনের দূষণ কার্যত অনিয়ন্ত্রিত এক পরীক্ষার রূপ নিয়েছে, যার ফল হতে পারে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়। বর্তমানে এর প্রভাব তুলনামূলক সীমিত থাকলেও দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের উপাত্তের ভিত্তিতে এ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মহাকাশ কোম্পানিগুলো যে হারে রকেট উৎক্ষেপণ বাড়াচ্ছে, বাস্তব পরিস্থিতি গবেষণার পূর্বাভাসের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণা প্রকল্পের প্রধান এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক ইলোইস মারাইস বলেন, মহাকাশ শিল্পের এ দূষণ অনেকটা ছোট পরিসরের অনিয়ন্ত্রিত জিওইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার মতো। এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত ও মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারে। তিনি আরো বলেন, পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠার আগেই কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি, কারণ একবার ক্ষতি বড় আকার ধারণ করলে তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।

‘রেডিয়েটিভ ফোর্সিং অ্যান্ড ওজোন ডিপলেশন অব আ ডেকেড অব স্যাটেলাইট মেগাকনস্টেলেশন মিশনস’ শিরোনামের গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘আর্থ ফিউচার্স’-এ। 


সানা/ডিসি/১৯/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প
১২ আগস্ট ২০২৬

হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প

গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়...

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুটি আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত: জয়সওয়াল
১২ আগস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দুটি আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত: জয়সওয়াল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপাক্ষিক সফর ও ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জা...

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো নীরব নয়াদিল্লি
১১ আগস্ট ২০২৬

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো নীরব নয়াদিল্লি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের আমন্ত্রণে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দেশটি সফর করবেন কি না, সে...

মানবতাবিরোধী অপরাধে বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড
১১ আগস্ট ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধে বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মানবতাবিরোধী অপরাধ, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই