গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

মেনু

ভারতে সন্তান বাড়াতে মোদি ঘনিষ্ঠদের আহ্বান

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫৯ পিএম, ১৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫৬ এএম ২০২৬
ভারতে সন্তান বাড়াতে মোদি ঘনিষ্ঠদের আহ্বান
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত, যেখানে বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ১৪২ কোটি, সেখানে জন্মহার কমে যাওয়ায় বড় পরিবার গঠনে উৎসাহ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও আদর্শিক মহলের নেতারা। তরুণদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্বসহ নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকলেও জনসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা ঠেকাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার দশক পর্যন্ত ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত থেকে প্রায় ১৭০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। তবে কিছু নীতিনির্ধারক ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠন মনে করছে, ছোট পরিবারের ধারণা থেকে সরে এসে বেশি সন্তান নেওয়ার প্রবণতা উৎসাহিত করা প্রয়োজন এবং এর জন্য সরকারি সহায়তাও দেওয়া উচিত।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের মোট প্রজনন হার ১৯৯২–৯৩ সালের ৩ দশমিক ৪ থেকে কমে ২০১৯–২১ সালে ২–এ নেমে এসেছে। নারীদের শিক্ষা বৃদ্ধি এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিস্তারের কারণে এই পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে ২ দশমিক ১ হার প্রয়োজন বলে সরকার উল্লেখ করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের মোদি-সমর্থিত জোট সরকার সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, তৃতীয় সন্তান জন্ম দিলে এককালীন ৩০ হাজার রুপি এবং চতুর্থ সন্তানের জন্য ৪০ হাজার রুপি প্রণোদনা দেওয়া হবে। এর আগে দ্বিতীয় সন্তানের জন্য ২৫ হাজার রুপি সহায়তার প্রস্তাব থাকলেও প্রথম সন্তানের জন্য কোনো আর্থিক সহায়তা নেই। তবে এই পরিকল্পনা কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।

অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু বলেন, অনেক দেশে জন্মহার কমে যাওয়ায় বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, আগে পরিবার পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হলেও এখন সন্তানকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার সময় এসেছে।

একইভাবে ভারতের সিকিম রাজ্যও বেশি সন্তান নেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে এক বছরের মাতৃত্বকালীন ছুটি, এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং আইভিএফ চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও তুরস্কের মতো দেশগুলোও অতীতে জন্মহার কমানোর নীতি নিয়েছিল, তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি বদলে জন্মহার বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিতে হয়েছে।

এদিকে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘও বড় পরিবার গঠনের আহ্বান জানিয়ে এটিকে সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির মতে, জন্মহার কমে যাওয়া ভবিষ্যতে সামাজিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ১ শতাংশ হলেও তরুণদের মধ্যে এটি তুলনামূলক বেশি, প্রায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। শহরাঞ্চলে এই হার আরো বেশি বলে পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।


সানা/ডিসি/আপ্র/১৮/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

মমতার গাড়িতে হামলার অভিযোগ, অল্পের জন্য রক্ষা
০৯ আগস্ট ২০২৬

মমতার গাড়িতে হামলার অভিযোগ, অল্পের জন্য রক্ষা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (০৯...

কানাডা থেকে ছয় মাসে ৩ হাজার ভারতীয় বহিষ্কার
০৯ আগস্ট ২০২৬

কানাডা থেকে ছয় মাসে ৩ হাজার ভারতীয় বহিষ্কার

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তিন হাজারের বেশি ভারতীয় নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে কানাডা। দেশটির সরকা...

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে এবার বড় দুঃসংবাদ!
০৯ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে এবার বড় দুঃসংবাদ!

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বর্তমানে এইচ-১বি ভি...

জাপানে ক্রেতারা ভুতুড়ে বাড়ি কেন কিনছেন!
০৯ আগস্ট ২০২৬

জাপানে ক্রেতারা ভুতুড়ে বাড়ি কেন কিনছেন!

জাপানে আবাসন ব্যয় ও বাড়িভাড়া দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ভুতুড়ে বা দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাড়ি, যেগুলো স্থানীয়ভাবে ‘জি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শেখ হাসিনার বক্তব্য সমর্থন করে না ভারত, জানালেন জয়সওয়াল

বাংলাদেশের বর্তমান বৈধ ও গঠিত সরকারের বিষয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য সমর্থন করে না নয়াদিল্লি। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে আমাদের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে। আমি আবারো সেটিই বলছি। এটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল, যেখানে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না।” প্রিয় পাঠক. আপনি কি মনে করেন ভারত সঠিক বলেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে