আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া শহরে হামলার কথা জানিয়েছে আফগানিস্তান।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসলামাবাদ জানায়, সীমান্তে আফগান তালেবানের অভিযানের পর তাদের দুজন সেনা নিহত হয়েছেন।
ডববিসি জানিয়েছে, ভোরের শুরুতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল জোরালো বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিট নাগাদ শহরজুড়ে জেট বিমানের শব্দসহ বিস্ফোরণ শোনা যায়। রাত প্রায় সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় গুলির শব্দ পাওয়া গেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, তার দেশের বাহিনী ‘যেকোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নস্যাৎ করতে সম্পূর্ণ সক্ষম’। পাকিস্তান সরকারের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি বলেন, “প্রিয় মাতৃভূমির প্রতিরক্ষায় কোনো আপস হবে না এবং প্রতিটি আগ্রাসনের জবাব উপযুক্তভাবে দেওয়া হবে।”
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি দাবি করেন, তাদের হামলায় এ পর্যন্ত আফগান তালেবানের ২৭টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস এবং আরও নয়টি দখল করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ৮০টির বেশি ট্যাংক, আর্টিলারি ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বৃহস্পতিবার রাতে ১৯টি পাকিস্তানি সামরিক পোস্ট এবং দুটি ঘাঁটি দখল করেছে। তাদের দাবি, এতে মোট ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন।
বিবিসি জানায়, সাম্প্রতিক সহিংসতায় উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর ভারী ক্ষয়ক্ষতির দাবি করছে, তবে এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।
এদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা এম আসিফ কঠোর ভাষায় এক্স পোস্টে আফগান তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন। তিনি লেখেন, “পাকিস্তান সরাসরি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।
‘আমাদের ধৈর্যের বাধ ভেঙে পড়েছে। এখন আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে উন্মুক্ত যুদ্ধ।’
গত অক্টোবরে একাধিক প্রাণক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই পক্ষ একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতেও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।
গত সপ্তাহে আফগানিস্তানে একাধিক রাতে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। তালেবানের দাবি, এসব হামলায় নারী-শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সীমান্তের কাছে সাতটি কথিত জঙ্গি শিবির ও আস্তানাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এর আগে পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে কাবুল জানিয়েছে, পাকিস্তান বেসামরিক বাড়ি ও একটি ধর্মীয় বিদ্যালয়কে নিশানা করেছিল।
আফগান তালেবান বলেছে, প্রতিক্রিয়া জানাতে তারা ‘বৃহৎ পরিসরে’ অভিযান শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার তারা দাবি করে, তাদের অভিযানে ‘অসংখ্য’ পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এক মুখপাত্র এ দাবি অস্বীকার করেন এবং তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ–এর ১৫টি সামরিক পোস্ট দখলের দাবিও খণ্ডন করেন।
পরে ওইদিন পাকিস্তান নিশ্চিত করে, যৌথ সীমান্তে ‘উসকানিবিহীন গুলি’র জবাব দিতে গিয়ে তাদের দুই সেনা নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে এ পর্যন্ত মোট ১৩৩ জন আফগান তালেবান নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন মোশাররফ জাইদি। তিনি এক্স পোস্টে লেখেন, শুক্রবার কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে পাকিস্তানের হামলায় ‘আরও অনেক হতাহত’ হয়েছে।
তবে জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক্সে লিখেছেন, সাম্প্রতিক পাকিস্তানি হামলায় ‘কেউ আহত হয়নি’।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি আফগান তালেবান হামলার বিরুদ্ধে তার দেশের প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করেন। শুক্রবার সকালে এক্সে তিনি লেখেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়া সর্বাঙ্গীন ও দৃঢ়। ‘যারা আমাদের শান্তিকে দুর্বলতা মনে করে, তারা কঠোর জবাব পাবে এবং কেউই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে না।’
উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ২,৫৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাহাড়ি সীমান্ত রয়েছে।
সানা/আপ্র/২৭/২/২০২৬