গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

গাদ্দাফি পুত্রের শেষ বিদায়ে হাজারো মানুষের ঢল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৪৪ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৪:০১ এএম ২০২৬
গাদ্দাফি পুত্রের শেষ বিদায়ে হাজারো মানুষের ঢল
ছবি

ছবি সংগৃহীত

লিবিয়ার প্রয়াত রাষ্ট্রপ্রধান মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির জানাজা ও দাফনে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি সাইফকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) লিবিয়ার বানি ওয়ালিদ শহরে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বানি ওয়ালিদ শহরে আয়োজিত দাফন অনুষ্ঠানে গাদ্দাফি পরিবারের অনুগত বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত গণ-অভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার প্রায় ১৫ বছর পরও তার পরিবারের প্রতি সমর্থনের এই দৃশ্য লিবিয়ার রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে নিজ বাসভবনে নিহত হন। তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চারজন অজ্ঞাত বন্দুকধারী তার বাড়িতে প্রবেশ করলে তাদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর জানিয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ৫৩ বছর বয়সি সাইফ আল-ইসলাম গুলির আঘাতে মারা গেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

জানাজায় অংশ নিতে সির্তে শহর থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসা ৩৩ বছর বয়সী ওয়াদ ইব্রাহিম বলেন, আমরা এখানে এসেছি আমাদের প্রিয় মানুষটিকে বিদায় জানাতে। তিনি ছিলেন আমাদের নেতার পুত্র যার ওপর আমরা আমাদের আশা ও ভবিষ্যৎ ভরসা রেখেছিলাম।

একসময় সাইফ আল-ইসলামকে তার বাবার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হতো। যদিও তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ ছিল না তবুও তিনি কার্যত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতেন। নিজেকে সংস্কারপন্থি হিসেবে তুলে ধরে তিনি লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগের আলোচনায় নেতৃত্ব দেন।

এছাড়া ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবিতে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।

তবে ২০১১ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রক্তের নদী বইয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর তার সেই সংস্কারপন্থি ভাবমূর্তি ভেঙে পড়ে। ওই বছরই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

২০২১ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও জাতিসংঘের উদ্যোগে লিবিয়াকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে আয়োজিত নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়।

বর্তমানে লিবিয়া দুই প্রশাসনে বিভক্ত-ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ-সমর্থিত প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দাবেইবার সরকার এবং পূর্বাঞ্চলে খলিফা হাফতারের সমর্থিত প্রশাসন। এমন প্রেক্ষাপটে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির হত্যাকাণ্ড দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা আরো বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র:আল-জাজিরা

এসি/আপ্র/০৭/০২/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে ২ তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন
২১ অক্টোবর ২০২৬

হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে ২ তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে বিপদের মুখে পড়েছে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার। প...

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করলো ট্রাম্প প্রশাসন
২১ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করলো ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিকদের ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।...

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো
২১ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে আবারো বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দা...

মিসরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৩, আহত ৩৪
২১ অক্টোবর ২০২৬

মিসরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৩, আহত ৩৪

মিসরের রাজধানী কায়রোর পশ্চিমে পর্যটকবাহী একটি বাসের সঙ্গে বড় ট্রাকের সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই