আইনি ইতিহাসে নজির গড়ে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই পরিচালিত একটি ল’ ফার্ম আদালতের মামলা জিতেছে। মানব আইনজীবীর সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়াই প্রাথমিক সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এ জয়কে আইনি পেশায় এক ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইংল্যান্ডের এক আদালতে ফ্রিল্যান্স এইচআর কনসালট্যান্ট তামিরেস কামাল তাকিদিরের বকেয়া অর্থ আদায়ের মামলায় এই সাফল্য অর্জন করে ‘গারফিল্ড এআই’ নামের একটি আইনি সেবা প্রতিষ্ঠান। মামলার আর্থিক পরিমাণ ছিল ৭ হাজার পাউন্ড।
তাকিদির প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ৪০০ পাউন্ড ফি দিয়ে তার পাওনা আদায়ের দায়িত্ব দেন। এরপর এআই সিস্টেমটি প্রথমে আইনি নোটিশ পাঠানো থেকে শুরু করে আদালতে মামলা দাখিল পর্যন্ত প্রাথমিক সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
মামলার শুনানির আগ পর্যন্ত যাবতীয় আইনি নথি, জবাব এবং প্রমাণপত্র প্রস্তুত করে এআই সিস্টেমটি। এমনকি প্রতিপক্ষের পাল্টা দাবির আইনি জবাবও প্রস্তুত করা হয় এর মাধ্যমে।
পরবর্তীতে ১৪ মে ওয়ান্ডসওয়ার্থ কাউন্টি কোর্টে অনুষ্ঠিত তিন ঘণ্টার শুনানিতে মক্কেলের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য একজন মানব ব্যারিস্টার নিয়োগ করা হয়। ওই শুনানির জন্য চারজন সাক্ষীর জবানবন্দিসহ পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র তৈরি করেছিল এআই।
শেষ পর্যন্ত আদালত তাকিদিরের পক্ষে রায় দিয়ে তার বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেয়।
গারফিল্ড এআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফিলিপ ইয়ং এই ঘটনাকে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ছোট অঙ্কের অর্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রে উচ্চ ব্যয় ও জটিল আইনি প্রক্রিয়ার কারণে অনেকেই ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। এআই-ভিত্তিক সেবা সেই বাধা অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে।
মামলায় জয় পাওয়া তাকিদির বলেন, তার পাওনা অর্থ আদায় দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল মনে হচ্ছিল। কিন্তু এআই-ভিত্তিক সহায়তা তাকে সহজ ও কার্যকরভাবে মামলা চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
তবে আদালতে উপস্থিত মানব ব্যারিস্টার ডমিনিক লি জানান, যুক্তি উপস্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনও মানুষেরই দায়িত্ব এবং সেটিই এখনো অপরিহার্য।
এদিকে যুক্তরাজ্যের আইন অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য আদালতে উপস্থাপনের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে, যা প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সব মিলিয়ে এই রায়কে আইন ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভবিষ্যতের বিচার ব্যবস্থার এক সম্ভাব্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
সানা/আপ্র/২৪/৬/২০২৬