শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত উদ্বেগের মুখে বড় ঘোষণা দিলো জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ।
গত বুধবার (১১ মার্চ) মেটা মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ বলেছে, এখন থেকে সন্তানদের (যাদের বয়স ১২ বছরের নিচে বা প্রি টিন’) জন্য অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ পাবেন মা-বাবারা। তবে ‘প্যারেন্ট ম্যানেজড’ শ্রেণিভূক্ত এই অ্যাকাউন্ট কেবল মেসেজ পাঠানো ও কলিংয়ের মধ্যেই সীমিত থাকবে।
রয়টার্স লিখেছে, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও চ্যাটিং অ্যাপ শিশুদের ওপর কেমন প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেটা।
বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশই অস্ট্রেলিয়াকে অনুসরণের চেষ্টা করছে। গেল বছর অস্ট্রেলিয়া প্রথম দেশ হিসেবে টিনএজারদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তাদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
হ্যাকিংয়ের বিভিন্ন ঘটনার পর মেসেজিং অ্যাপগুলো নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। এসব ঘটনায় ব্যবহারকারীদের ফুসলিয়ে তাদের সিকিউরিটি ভেরিফিকেশন ও পিন কোড হাতিয়ে নেওয়া হয়। ফলে অপরাধীরা খুব সহজেই ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ও বিভিন্ন গ্রুপ চ্যাটিংয়ের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যেত।
হোয়াটসঅ্যাপ বলেছে, অভিভাবকদের কাছ থেকেই তারা এমন ফিডব্যাক পেয়েছিল যে, তারা ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ ধরনের মেসেজিং সেবা চান।
সেই চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই এই ‘প্যারেন্ট ম্যানেজড’ বা অভিভাবকনিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টের ধারণাটি এসেছে।
এক ব্লগ পোস্টে হোয়াটসঅ্যাপ বলেছে, এসব অ্যাকাউন্টে কঠোর সব ডিফল্ট সেটিং ও প্যারেন্টাল কন্ট্রোল থাকবে। এর মাধ্যমে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুরা প্রথমবারের মতো যখন মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার শুরু করবে তখন তাদের অভিভাবকরা সরাসরি দিকনির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। অ্যাকাউন্টটি সেট আপের পর এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে মা-বাবা বা অভিভাবকের হাতে। কে সেই শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে এবং সে কোন গ্রুপে যোগ দেবে তা অভিভাবকরাই ঠিক করে দেবেন। এ ছাড়া, অপরিচিত কেউ মেসেজ পাঠালে তা যাচাই করা ও অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি সেটিংস নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও অভিভাবকদের হাতেই থাকবে।
সানা/আপ্র/১৩/৩/২০২৬