বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ চোখে ছানি। প্রতি বছর লাখো মানুষ এ সমস্যায় আক্রান্ত হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অনুসরণ করলে ছানির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় এবং বার্ধক্য পর্যন্ত চোখ সুস্থ রাখতে এসব বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
চোখের স্বাভাবিক লেন্স ঘোলা হয়ে গেলে ছানি সৃষ্টি হয়। এর ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, আলোর ঝলকানিতে সংবেদনশীলতা বাড়ে এবং চিকিৎসা না করালে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বয়স বৃদ্ধিকে ছানির প্রধান ঝুঁকি হিসেবে ধরা হলেও জীবনযাপনের নানা অভ্যাসও এ রোগের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখ সুরক্ষিত রাখুন
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ছানি সৃষ্টির অন্যতম কারণ। তাই বাইরে বের হলে এমন সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত, যা শতভাগ অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধ করতে সক্ষম। পাশাপাশি চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি ব্যবহার করলে চোখে সরাসরি সূর্যালোকের প্রভাব কমে।
পুষ্টিকর ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খান
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার চোখের লেন্সকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। পালং শাকসহ বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি, কমলা ও আমের মতো উজ্জ্বল রঙের ফল এবং ভিটামিন ‘সি’ ও ‘ই’ সমৃদ্ধ খাবার ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া স্যামনের মতো মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চোখের সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।
ধূমপান পরিহার করুন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের ছানি হওয়ার ঝুঁকি দুই থেকে তিন গুণ বেশি। ধূমপানের কারণে শরীরে বিষাক্ত উপাদান প্রবেশ করে, যা চোখের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং লেন্সের ক্ষয় ত্বরান্বিত করে। তাই চোখের সুস্থতার জন্য ধূমপান ত্যাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের মতো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা ছানির ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে চোখের লেন্স দ্রুত ঘোলা হতে পারে। তাই এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।
নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান
চক্ষু বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো ছানি প্রতিরোধ ও দ্রুত শনাক্তকরণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে ছানি ছাড়াও গ্লুকোমা ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের মতো রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের অন্তত প্রতি দুই বছরে একবার এবং ৬০ বছরের পর প্রতি বছর চোখ পরীক্ষা করানো উচিত।
এসি/আপ্র/১৬/০৬/২০২৬