সব সময়ই বলা হয় অলস হওয়া যাবে না, কাজ করে যেতে হবে। কর্মঠ মানুষকে সবাই প্রশংসা করেন। আর অলসতার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় নানা নেতিবাচক ধারণা। কিন্তু অলসতা ও বিশ্রাম ঘিরেও রয়েছে একটি বিশেষ দিন! প্রতি বছর ১০ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে ‘ন্যাশনাল লেজি ডে’ অর্থাৎ ‘জাতীয় অলস দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে নেই কোনো কঠিন নিয়ম বা আনুষ্ঠানিক আয়োজন; বরং ব্যস্ত জীবন থেকে একটু বিরতি নিয়ে নিজের মতো করে সময় কাটানোই এর মজার মূল ভাবনা। তাই দীর্ঘদিন কাজের চাপ, পড়াশোনা কিংবা নানা দায়িত্বে ব্যস্ত থাকার পর এদিন একটু ধীরগতিতে চলার অজুহাত খোঁজা যেতেই পারে। এ বিষয় নিয়েই এবারের লাইফস্টাইল পাতার প্রধান ফিচার
সব ধরনের অলসতাকে একভাবে দেখা ঠিক নয়। কোনো কাজ করতে একেবারেই ইচ্ছে না করা এবং প্রয়োজনের সময় শরীর-মনকে বিশ্রাম দেওয়া- দুটি এক বিষয় নয়। প্রতিদিনের ব্যস্ততায় শরীর ও মস্তিষ্কও বিশ্রামের প্রয়োজন অনুভব করে। তাই মাঝে মাঝে কাজ থেকে দূরে গিয়ে শান্তভাবে সময় কাটানো স্বাভাবিক।
অলসতা মানেই খারাপ নয়: দ্রুতগতির জীবনযাত্রায় অনেকেই মনে করেন, প্রতিটি মুহূর্ত কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে। কখনো কাজ, কখনো পড়াশোনা, কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জন্য নিরিবিলি সময়ই যেন কমে যাচ্ছে। জাতীয় অলস দিবস ওই জায়গাতেই একটু থামার কথা মনে করিয়ে দেয়।
দিনটি যেভাবে কাটানো যায়: এই দিনে বিশাল কোনো পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই। বরং দীর্ঘদিন ধরে যে কাজগুলো করার সময় পাচ্ছেন না, সেগুলোর বাইরে গিয়ে নিজের পছন্দের আরামদায়ক কিছু করতে পারেন। অ্যালার্ম বন্ধ করে একটু বেশি ঘুমানো, আরাম করে বই পড়া, প্রিয় সিনেমা দেখা, গান শোনা কিংবা বারান্দায় চুপচাপ বসে থাকা- সবই হতে পারে দিনের অংশ। চাইলে মোবাইলের নোটিফিকেশনও কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখতে পারেন। সারাক্ষণ ফোন, ই-মেইল কিংবা কাজের বার্তা দেখতে থাকলে বিশ্রামের সময়টুকুও ব্যস্ততায় কেটে যায়। তাই কিছুটা সময় ডিজিটাল দুনিয়া থেকে দূরে থাকাও হতে পারে স্বস্তিদায়ক অভিজ্ঞতা।
বিরতি নেওয়া আসলে অলসতা নয়: কাজের মাঝখানে ছোট ছোট বিরতি মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। দীর্ঘ সময় একটানা কাজ করার বদলে মাঝে কিছুটা বিশ্রাম নিলে শরীর ও মন দুটিই সতেজ হওয়ার সুযোগ পায়। তাই প্রয়োজনের সময় বিশ্রাম নেওয়াকে ব্যর্থতা বা অলসতা হিসেবে দেখার দরকার নেই। তবে এই দিবসের অর্থ সারাক্ষণ দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নয়। বরং কাজের পাশাপাশি নিজের যত্ন, বিশ্রাম ও মানসিক স্বস্তির জন্যও জায়গা রাখা। কারণ পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া দীর্ঘদিন একই গতিতে ছুটে চলাও কঠিন।
দিবসটির ইতিহাসও বেশ অলস: জাতীয় অলস দিবস ঠিক কে বা কখন চালু করেছিলেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। আর এখানেই দিবসটিকে ঘিরে মজার রসিকতা-হয়তো এর উদ্যোক্তারাই এতটাই অলস ছিলেন যে দিবসটি চালুর ইতিহাস লিখে রাখার প্রয়োজন মনে করেননি।
অলসতা দিবসে কাজের তালিকা থেকে একটু দূরে থাকতে ইচ্ছা হয়। কিছুক্ষণ বেশি ঘুমানো, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করে সময় কাটানো উচিত। কারণ অলসতারই দিনে একটু আলসেমি করলে দোষ নেই। সূত্র: ন্যাশনাল ডে ক্যালেন্ডার।
কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬