চলচ্চিত্র অঙ্গনের অবদানের স্বীকৃতিতে একুশে পদক নিলেন অভিনেত্রী ফরিদা আখতার ববিতা। সংস্কৃতি ও সংগীতে অবদানের জন্য এই পুরস্কার পেয়েছে ব্যান্ডদল ওয়ারফেজ, পালা গানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার, নৃত্যে অর্থি আহমেদ এবং মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু।
তার পক্ষে পদক নেন তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সম্মাননা তুলে দেন। প্রথমে একুশে পদক গ্রহণ করেন ববিতা।
একুশে পদক নিতে অভিনেত্রীর নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। তিনি বলেন, “শিল্পকলার ক্ষেত্রে চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য এই বছর একুশে পদক পাচ্ছেন ফরিদা আখতার। খুব বোঝা যাচ্ছে না মনে হয়, ওরফে ববিতা।”
অভিনেত্রীর কর্মজীবন নিয়ে বলা হয়, “শিল্পকলা (চলচ্চিত্র) ক্ষেত্রে এবছর একুশে পদক পেয়েছেন ফরিদা আক্তার পপি, যিনি চলচ্চিত্রে ‘ববিতা’ নামে খ্যাত।” ক্যারিয়ারে তিনশর বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন ববিতা। তার অভিনীত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘আলোর মিছিল’, ‘আবার তোরা মানুষ হ’ সাড়া জাগায়।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘অশনি সংকেত’ এর প্রধান অভিনেত্রী তিনি। ববিতা ৭০টির বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে মোট চারবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পেয়েছেন। সাদা শাড়িতে মঞ্চে উঠে একুশে পদক গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ববিতা।
এর আগে একুশে পদকের জন্য মনোনীত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে ববিতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, তিনি ভীষণ আনন্দিত। “কৃতজ্ঞতা জানাই আমার অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী এবং সিনেমার দর্শকদের, যাদের ভালোবাসা ছাড়া আমি ববিতা হয়ে উঠতে পারতাম না। যারা আমাকে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছেন, তাদের কাছেও কৃতজ্ঞতা জানাই।”
সংগীতে আইয়ুব বাচ্চুর পক্ষ থেকে একুশে পদক নেন তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা। পুরস্কার প্রাপ্তির পর আইযুব বাচ্চুর ব্যান্ড এলআরবি ফেইসবুকে লিখেছে, “আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি এই রাষ্ট্রীয় সম্মান শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি তার আজীবন সংগীতসাধনার প্রতি জাতির গভীর শ্রদ্ধা।
বাংলা রকের পথচলায় তিনি যে সাহস, সততা এবং নতুনত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা আমাদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিশ্বমঞ্চে আলাদা পরিচয় এনে দিয়েছে।” এই সম্মাননার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে দলটি। ব্যান্ড সংগীতে প্রথম কোনো দল হিসেবে একুশে পদক পেয়েছে ওয়ারফেজ। দলটির প্রধান শেখ মনিরুল আলম এই পদক গ্রহণ করেন।
পদক গ্রহণের পর বেশ কিছু ছবি পোস্ট করে ফেইসবুকে শেখ মনিরুল আলম লিখেছেন, “আজ ওয়ারফেজের জন্য এক গর্বিত ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সংগীতে আমাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদক অর্জন করতে পেরে আমরা গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ। “এই সম্মান শুধু ব্যান্ডের নয়, এই দীর্ঘ যাত্রায় পাশে থাকা প্রতিটি শ্রোতা, সমর্থক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরও।
এই মহামূল্যবান সম্মানের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আর আমাদের ভক্তদের প্রতি রইল অফুরন্ত ভালোবাসা ও ধন্যবাদ। আপনাদের বিশ্বাসই সবসময় আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।” এ বছর নৃত্যকলায় একুশে পদক গ্রহণ করেন তরুণ নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদ। পালা গানে এই পদক গ্রহণ করেছেন ইসলাম উদ্দিন পালাকার।
পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এককালীন চার লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আবু নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, সংস্কৃতি সচিব মফিদুর রহমান ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিশিষ্ট নাগরিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
ডিসি/আপ্র/২৬/২/২০২৬