ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে উল্লেখ করে দেওয়া বক্তব্য ঘিরে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে নিজের মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তবে তার দাবি, বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে বোঝা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া মন্তব্যের জেরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের কর্মসূচির ডাক দেন একদল শিক্ষার্থী।
সমালোচনার মুখে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বক্তব্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ববি হাজ্জাজ। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বক্তব্যের ভুল উপস্থাপন প্রসঙ্গে’ শিরোনামে দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, আলোচিত মন্তব্যগুলো সম্পূর্ণই তার ব্যক্তিগত চিন্তা ও মতামত, যা কোনোভাবেই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়।
তিনি দাবি করেন, তার মূল বক্তব্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো গবেষণানির্ভর ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মর্যাদা বা অবদানকে খাটো করা তার উদ্দেশ্য ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, গত সতেরো বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং অনেক ক্ষেত্রে একাডেমিক উৎকর্ষের পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে অনৈতিক একাডেমিক চর্চা ও চৌর্যবৃত্তির অভিযোগেরও সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, আলোচিত পডকাস্টটি ছিল অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথন। এটি কোনো গবেষণাভিত্তিক বা নীতিনির্ধারণী আলোচনা ছিল না। আনুষ্ঠানিক পরিসরে বক্তব্যের ভাষা ও উপস্থাপনা আরো কাঠামোবদ্ধ হতো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতি গঠনে অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, তিনি চান বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বমানের গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে আরো শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করুক। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরো সমৃদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, তার বক্তব্যের আংশিক অংশ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকেই এতে মর্মাহত হয়েছেন। এ কারণে তিনি বক্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন এবং এ বিষয়ে আর কোনো বিতর্ক না থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সানা/আপ্র/২৯/৫/২০২৬