সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচিতে অনিয়ম ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগের পর শিক্ষার্থীদের খাদ্যনিরাপত্তা ও সেবার মান তদারকিতে বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘গার্ডিয়ান কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাঁচ সদস্যের এ কমিটিতে থাকবেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটির একজন সদস্য এবং তিনজন অভিভাবক মা। সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সভায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা বা কাঁচা কলা, নিম্নমানের বানরুটি এবং নষ্ট সেদ্ধ ডিম বিতরণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়।
পুষ্টিহীনতা ও ক্ষুধা প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম বড় বাধা বিবেচনায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি চালু করা হয়। বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী এ কর্মসূচির আওতায় খাবার পাচ্ছে। এর লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া কমানো এবং শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ধরে রাখা।
বর্তমানে সপ্তাহে ছয় দিন শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। শনি, রবি, বুধ ও বৃহস্পতিবার দেওয়া হয় বানরুটি ও সেদ্ধ ডিম। সোমবার বানরুটি ও ইউএইচটি দুধ এবং মঙ্গলবার ফর্টিফায়েড বিস্কুট ও কলা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাজারদর অনুযায়ী প্রতিটি ডিম ১৪ টাকা, কলা ১০ টাকা, বানরুটি ২৫ টাকা, দুধ ২৯ টাকা ও বিস্কুট ১৯ টাকা ধরে বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয়ভাবে খাবার সংগ্রহ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়ম হচ্ছে। কোথাও কম দামে নিম্নমানের বানরুটি কেনা হচ্ছে, কোথাও আগেভাগে সেদ্ধ করা ডিম বা কাঁচা-পচা কলা সরবরাহ করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর এজেন্টনির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থার কারণেই এসব অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জরুরি সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘মিড-ডে মিল’ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম, গাফিলতি বা মানহীনতা সহ্য করা হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করাকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সভায় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ পাঁচ দফা নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, অনুমোদিত নমুনা অনুযায়ী নির্ধারিত প্যাকেজিং কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য হবে না। সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পণ্য সরবরাহকারী চালক ও জাতীয় পরিচয়পত্রধারী ব্যক্তি একই হতে হবে এবং সরবরাহের সময় পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক করা হবে।
তিনি আরো জানান, কোনো অবস্থাতেই উপঠিকাদারি দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে। পাশাপাশি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতি মাসে অন্তত দুবার আকস্মিকভাবে কারখানা পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় অনিয়ম, গাফিলতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড তদন্তে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়। অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৮/৫/২০২৬