গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

মেনু

এসএসসিতে নকল ও অনিয়মে শূন্য সহনশীলতা, কেন্দ্র সহনশীল

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:২৩ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০৮:৪৪ এএম ২০২৬
এসএসসিতে নকল ও অনিয়মে শূন্য সহনশীলতা, কেন্দ্র সহনশীল
ছবি

নকল প্রতিরোধে এবার এসএসসির অনেক কেন্দ্রের কিছু কক্ষে বসছে সিসিটিভি -ছবি সংগৃহীত

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাকে শিক্ষার্থীবান্ধব করার আশ্বাসের পাশাপাশি নকল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, পরীক্ষাকেন্দ্র হবে সহনশীল ও সহায়ক, তবে অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

সোমবার (২০ এপ্রিল) পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, পরীক্ষার্থীদের ভীতি দূর করতে কেন্দ্রগুলোতে ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। প্রশ্নপত্রে কোনো জটিলতা থাকলে কক্ষ পরিদর্শকরা তা বুঝতে সহায়তা করবেন, যাতে শিক্ষার্থীরা চাপমুক্তভাবে পরীক্ষা দিতে পারে।

একই সঙ্গে তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, নকল, প্রশ্নফাঁস ও অসদুপায় রোধে সাইবার নজরদারি জোরদার করা হবে এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীদের নিজেদের মেধা অনুযায়ী উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্য নম্বর নিশ্চিত করা হবে।

তবে এ ধরনের কঠোর হুঁশিয়ারি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। অনেকের মতে, পরীক্ষার আগে শাস্তির বিষয়গুলো বারবার তুলে ধরায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ ও ভীতি তৈরি হচ্ছে। আবার অন্যরা মনে করেন, অনিয়ম না করলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই এবং এটি নৈতিকতা গড়ে তুলতে সহায়ক।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হেলাল উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, শাস্তির বিষয় আগে থেকে জানানো নেতিবাচক নয়; বরং এতে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ভিত্তি ও জবাবদিহি বাড়ে। অন্যদিকে শিক্ষাবিদ মনজুর আহমেদ বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় অতিরিক্ত পরীক্ষানির্ভরতা কমিয়ে শেখার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

এবার নকল ও অনিয়ম রোধে ১৯ ধরনের অপরাধ চিহ্নিত করে তিন স্তরের শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরীক্ষাকক্ষে অনিয়ম, মোবাইল বা ডিভাইস বহন করলে ওই বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হবে। গুরুতর অপরাধে এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল জালিয়াতি ঠেকাতে মাঠে থাকছে বিশেষ নজরদারি দল, যারা যেকোনো সময় কেন্দ্রে অভিযান চালাতে পারবে। একই সঙ্গে আসন বিন্যাসেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে—৫ থেকে ৬ ফুট বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুইজন এবং ৪ ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, সুষ্ঠু পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সব পর্যায়ে কঠোর নজরদারি থাকবে এবং কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। সারা দেশের ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেবে। তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত।
সানা/আপ্র/২১/৪/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা নন-এমপিও শিক্ষকদের
১০ জুন ২০২৬

শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা নন-এমপিও শিক্ষকদের

দেশের বেসরকারি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্তির দাবিতে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে...

অনার্সে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ বাতিলের খবর ভিত্তিহীন: শিক্ষা মন্ত্রণালয়
০৯ জুন ২০২৬

অনার্সে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ বাতিলের খবর ভিত্তিহীন: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

অনার্স (স্নাতক সম্মান) পর্যায় থেকে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিষয় তুলে দেওয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম...

চার বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিলো সরকার
০৯ জুন ২০২৬

চার বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিলো সরকার

দেশের চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেদনের ভিত্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে টিআইবির প্রতিক্রিয়া

টিআইবির প্রতিবেদন শুধু পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর নির্ভর করে প্রণীত হয়-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, গবেষণা প্রতিবেদনকে ঢালাওভাবে পত্রিকার কাটিং-নির্ভর বলা মূল বিষয়কে পাশ কাটানোর ব্যর্থ প্রয়াস ছাড়া কিছু নয়। আপনি কি মনে করেন যে, টিআইবির এই বিবৃতি যৌক্তিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে