এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাকে শিক্ষার্থীবান্ধব করার আশ্বাসের পাশাপাশি নকল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, পরীক্ষাকেন্দ্র হবে সহনশীল ও সহায়ক, তবে অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সোমবার (২০ এপ্রিল) পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, পরীক্ষার্থীদের ভীতি দূর করতে কেন্দ্রগুলোতে ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। প্রশ্নপত্রে কোনো জটিলতা থাকলে কক্ষ পরিদর্শকরা তা বুঝতে সহায়তা করবেন, যাতে শিক্ষার্থীরা চাপমুক্তভাবে পরীক্ষা দিতে পারে।
একই সঙ্গে তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, নকল, প্রশ্নফাঁস ও অসদুপায় রোধে সাইবার নজরদারি জোরদার করা হবে এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীদের নিজেদের মেধা অনুযায়ী উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্য নম্বর নিশ্চিত করা হবে।
তবে এ ধরনের কঠোর হুঁশিয়ারি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। অনেকের মতে, পরীক্ষার আগে শাস্তির বিষয়গুলো বারবার তুলে ধরায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপ ও ভীতি তৈরি হচ্ছে। আবার অন্যরা মনে করেন, অনিয়ম না করলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই এবং এটি নৈতিকতা গড়ে তুলতে সহায়ক।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হেলাল উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, শাস্তির বিষয় আগে থেকে জানানো নেতিবাচক নয়; বরং এতে শিক্ষার্থীদের নৈতিক ভিত্তি ও জবাবদিহি বাড়ে। অন্যদিকে শিক্ষাবিদ মনজুর আহমেদ বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় অতিরিক্ত পরীক্ষানির্ভরতা কমিয়ে শেখার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
এবার নকল ও অনিয়ম রোধে ১৯ ধরনের অপরাধ চিহ্নিত করে তিন স্তরের শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরীক্ষাকক্ষে অনিয়ম, মোবাইল বা ডিভাইস বহন করলে ওই বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হবে। গুরুতর অপরাধে এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়েছে।
ডিজিটাল জালিয়াতি ঠেকাতে মাঠে থাকছে বিশেষ নজরদারি দল, যারা যেকোনো সময় কেন্দ্রে অভিযান চালাতে পারবে। একই সঙ্গে আসন বিন্যাসেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে—৫ থেকে ৬ ফুট বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুইজন এবং ৪ ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, সুষ্ঠু পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সব পর্যায়ে কঠোর নজরদারি থাকবে এবং কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। সারা দেশের ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেবে। তাত্ত্বিক পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত।
সানা/আপ্র/২১/৪/২০২৬