মাহফুজ আলম সোহাগ, জাবি প্রতিনিধি: অনলাইনে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে আকর্ষণীয় মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দুই শিক্ষার্থীসহ চারজনকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রিমান্ডে নেওয়া অন্য দুজন চীনা নাগরিক। গত ২৩ অক্টোবর ঢাকার মহানগর হাকিম মেহেদী হাসান শুনানি শেষে তাঁদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন রুহুল আমিন বিশ্বাস (২৬), শেখ সানজিদা মনসুর সিথি (২৩) এবং চীনা নাগরিক চ্যান লং জি (৩৬) ও ওয়াং শিওয়েই (৩৫)। এর আগে ২২ অক্টোবর রাজধানীর আদাবর ও ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
অভিযুক্ত রুহুল আমিন বিশ্বাস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৫০তম আবর্তনের এবং শেখ সানজিদা মনসুর সিথি চারুকলা বিভাগের ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা তাঁদের শিক্ষার্থী পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের নামে অর্থ আত্মসাতের এ ঘটনায় বাদী মো. আবু ছাদেককে হোয়াটসঅ্যাপে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে দুটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাঁকে বিভিন্ন বিনিয়োগ প্যাকেজ ও ব্লক ট্রেড শেয়ার সম্পর্কে জানানো হয়। বিনিয়োগ করলে প্রতিদিন আকর্ষণীয় মুনাফা পাওয়া যাবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
শেখ সানজিদা মনসুর সিথি
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে অভিযুক্তদের দেওয়া একাধিক হিসাবে মোট ১১ কোটি টাকা পাঠান বাদী। বিনিয়োগে আস্থা অর্জনের জন্য তাঁকে ১০ লাখ টাকা মুনাফাও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মূল অর্থ ও লভ্যাংশ ফেরত চাইলে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হন তিনি। একপর্যায়ে গত ৫ মে থানায় মামলা করেন।
পুলিশের দাবি, রুহুল আমিন বিশ্বাস ও শেখ সানজিদা মনসুর সিথি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যাংক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ই-মেইলের প্রবেশাধিকার সংগ্রহ করে চীনা নাগরিক চ্যান লং জি ও ওয়াং শিওয়েইয়ের কাছে সরবরাহ করতেন। এসব ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আরো ২ কোটি ৭ লাখ ৫২ হাজার টাকা অন্যান্য হিসাবে পাঠানোর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি টাকা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ডিজিটাল যন্ত্রের পাসওয়ার্ড উদ্ধার, ব্যাংক লেনদেন বিশ্লেষণ, অর্থের প্রবাহ শনাক্ত এবং পলাতক সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
সানা/আপ্র/০৩/১১/২০২৬