বাবা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা। সেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পথ ধরে একটু একটু করে এগিয়ে চলেছেন তার বড় ছেলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জুনিয়র। বয়স সবে ১৬, এর মধ্যেই পর্তুগালের বয়সভিত্তিক ফুটবলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। এবার ক্যারিয়ারে আরও এক ধাপ এগোলেন তিনি।
প্রথমবারের মতো ডাক পেলেন দেশটির অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে। আগামী ইউরোপিয়ান অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বের জন্য সোমবার ২৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন পর্তুগালের কোচ ফিলিপে রামোস। সেখানে জায়গা পেয়েছেন সৌদি আরবের ক্লাব আল নাস্রের একাডেমিতে খেলা রোনালদো জুনিয়র। ‘ক্রিস্টিয়ানিনিয়ো’ নামে পরিচিত এই তরুণের জন্য পর্তুগালের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলা অবশ্য নতুন নয়। গত বছরের মে মাসে দেশটির অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল তার।
এরপর খেলেছেন অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়েও। দুই বয়সভিত্তিক দল মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচে পাঁচ গোল করেছেন রোনালদো জুনিয়র। অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে চার ম্যাচে দুটি ও অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে নয় ম্যাচে করেছেন তিন গোল।
ক্লাব ফুটবলেও নিজের প্রতিভার ঝলক দেখাচ্ছেন রোনালদোর ছেলে। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম জিরোজিরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে আল নাস্রের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে সাত ম্যাচে তিনবার জালের দেখা পেয়েছেন তিনি।
এবার জাতীয় দলের আরও উঁচু পর্যায়ে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন রোনালদো জুনিয়র। আগামী ১১ নভেম্বর আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইউরোপিয়ান অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্ব শুরু করবে পর্তুগাল। তিন দিন পর তাদের প্রতিপক্ষ বুলগেরিয়া। ১৭ নভেম্বর গ্রুপের শেষ ম্যাচে সার্বিয়ার মুখোমুখি হবে তারা।
তিনটি ম্যাচই হবে পর্তুগালের ওইরাসে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের অনুশীলনকেন্দ্রে। বাছাইপর্বের পরের ধাপে যেতে গ্রুপের সেরা দুই দলের মধ্যে থাকতে হবে পর্তুগালকে। বাবার মতোই আক্রমণভাগে খেলেন রোনালদো জুনিয়র।
ফলে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী রোনালদোর সঙ্গে তার তুলনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে ছেলেকে নিয়ে অযথা প্রত্যাশার চাপ তৈরি করতে চান না পর্তুগিজ মহাতারকা। এর আগে একাধিকবার ছেলের ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি। রোনালদোর মতে, প্রতিভা থাকলেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে সফল হতে হলে কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও একাগ্রতার বিকল্প নেই।
‘আমরা দেখব, সে বড় ফুটবলার হতে পারে কি না। এখনও সে সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি।’ ছেলের গতি ও ড্রিবলিং দক্ষতার প্রশংসাও করেছেন রোনালদো। তবে শুধু এসব সামর্থ্য দিয়ে যে সফল ফুটবলার হওয়া সম্ভব নয়, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
পেশাদার ফুটবলে নিজের মতো ক্যারিয়ার গড়তে ছেলেকে চাপ দিতে চান না রোনালদো। বরং ভবিষ্যতে যে পেশাই বেছে নিক না কেন, সেখানে নিজের সেরাটা দিক, এমনটাই চাওয়া তার। এদিকে বাবার পরিচয়ের বাইরে নিজস্ব পথচলায় ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছেন রোনালদো জুনিয়র।
অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৬ দলের পর এবার অনূর্ধ্ব-১৭ দলে ডাক পাওয়া তার সেই যাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
ডিসি/আপ্র/০৩/১১/২০২৬