গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

মেনু

ছড়িয়ে পড়ছে শ্রমিক আন্দোলন, অস্থির চার শিল্পাঞ্চল

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৩১ পিএম, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:১৮ এএম ২০২৬
ছড়িয়ে পড়ছে শ্রমিক আন্দোলন, অস্থির চার শিল্পাঞ্চল
ছবি

মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ছবিটি সংগৃহীত

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, বকেয়া বেতন পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর মিরপুর, সাভারের আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবারও বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সংঘর্ষে জেলা ও শিল্প পুলিশের ৯ সদস্যসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। গাজীপুরের কাশিমপুরে শ্রমিকদের ধাওয়া ও ঘেরাওয়ের মুখে পুলিশ সদস্যদের থানায় ফিরে যেতে হয়। পরে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। আশুলিয়ায় সংঘর্ষে পুলিশের প্রায় ৫০ সদস্য আহত হয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শত শত কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় ১২ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে পোশাকশিল্প মালিকদের মধ্যেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে কারখানার উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর কার্যালয়ে বর্তমান ও সাবেক নেতারা এবং কয়েকজন শীর্ষ উদ্যোক্তা বৈঠক করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঝুঁকি নিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব কি না এবং পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

শ্রমিকদের প্রধান দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। পাশাপাশি বকেয়া বেতন পরিশোধ, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল এবং আন্দোলনকারীদের কালো তালিকাভুক্তি বাতিলের দাবিও রয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলন সাম্প্রতিক কয়েক দিনে তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) থেকে মিরপুর, গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও সাভারের আশুলিয়ায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে বৃহস্পতিবারও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেন।

শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার সরকার ছয় সদস্যের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। তবে বোর্ড গঠনের পরও আন্দোলন থামেনি। বরং সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটে। গাজীপুর ও আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, যানবাহন ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ওই দিন সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরে প্রায় ৪০০ কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে আশুলিয়ার ২৬৪টি এবং গাজীপুরের দেড় শতাধিক কারখানা ছিল। মিরপুরেও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সরকারি স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার সকালেও মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সকাল ১০টার দিকে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে। প্রায় এক ঘণ্টা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবী থেকে মিরপুর-১০ নম্বর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় অন্তত চারজনকে আটক করে পুলিশ। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনও বন্ধ রাখা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী মঙ্গলবার জানান, তৈরি পোশাকশ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ৩৩ সদস্যকে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ সহিংসতা ও নাশকতার চেষ্টা করছে। তবে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।

আশুলিয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের নিশ্চিন্তপুর, ইউনিক ও নরসিংহপুর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। একপর্যায়ে কয়েকটি স্থানে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধের চেষ্টা করা হয়।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সাধারণ শ্রমিকেরা কাজে থাকতে চান। কিন্তু বহিরাগত কিছু লোকের ইন্ধনে একটি পক্ষ প্রতিদিন সকালে কাজে যোগ দিতে আসা শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে কারখানা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টাও চলছে।

তাঁর দাবি, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ নয়, বরং তাঁদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই পুলিশের দায়িত্ব। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তাঁর আওতাধীন প্রায় আট শতাধিক কারখানার মধ্যে শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর ও জিরাবো এলাকায় বেশি কারখানা বন্ধ রয়েছে। সংঘর্ষে এ পর্যন্ত পুলিশের প্রায় ৫০ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। সোমবার আহত হন প্রায় ২০ জন। মঙ্গলবার একজন পুলিশ সদস্যের মাথায় ইটের আঘাত লাগলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। সোমবার পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবারও প্রত্যক্ষ প্রমাণের ভিত্তিতে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আশুলিয়ায় শ্রমিকদের চার মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে আত্মগোপনে থাকা এক মালিককে আটক করে পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করার কথাও জানান শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা। তাঁর দাবি, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়েও পুলিশ সহযোগিতা করছে।

গাজীপুরে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নাওজোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে শ্রমিকেরা অবরোধ করেন। এ সময় সড়কের পাশে থাকা বর্জ্য এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোড় মোড় পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, ভোগড়া ও মৌচাক এলাকাতেও শ্রমিকদের জড়ো হওয়ার চেষ্টা দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাজীপুর মহানগর পুলিশের কাশিমপুর থানা ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাশিমপুর এলাকায় ডিবিএল গ্রুপের একটি কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলন করছিলেন। তাঁদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা মোহাম্মদ খালিদ হোসেনসহ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে একদল শ্রমিক পুলিশকে ধাওয়া করলে সদস্যরা দৌড়ে থানায় ফিরে যান। পরে শ্রমিকেরা থানার আশপাশে জড়ো হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ঘেরাও করেন। পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে। এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালিদ হোসেন বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে দুষ্কৃতকারীরা যোগ দিয়ে থানার আশপাশে জড়ো হয়েছিল। তাঁদের চলে যেতে বললেও তাঁরা যাননি। পরে পুলিশের একাধিক দল এসে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং লাঠিপেটা করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে। বর্তমানে থানা এলাকায় কোনো শ্রমিক নেই। গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও পরিচালন) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে কাশিমপুর থানা পুলিশের পাশাপাশি অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও পাঠানো হয়েছে।

গাজীপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হলেও পরে তা বাড়ানো হয়। বিজিবি সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে মোট ১২ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে। এর মধ্যে গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় দুই প্লাটুন মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে কাজ করছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় চার হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত গ্রেফতারের সংখ্যা ছিল ৪৫। গ্রেফতার ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাশকতার ঘটনায় তাঁদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জেও সংঘর্ষ
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় জড়ো হয়ে তাঁরা অবরোধ শুরু করেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে কর্মসূচি। এ সময় সড়কে আগুন জ্বালানোর পাশাপাশি কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।

শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে পুলিশ। একপর্যায়ে পরিস্থিতির অবনতি হলে উভয়পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে বিক্ষোভকারীরাও ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এতে জেলা পুলিশের তিনজন এবং শিল্প পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন দুই শ্রমিক।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান বলেন, শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করলে প্রথমে তাঁদের বুঝিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরে তাঁরা সড়কে অগ্নিসংযোগ ও যানবাহন ভাঙচুর শুরু করেন। বিকেল ৫টার দিকে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে পুলিশের একজন সদস্য আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ ও অবরোধে কয়েক ঘণ্টা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এক দিনে ৩০৬ কারখানায় ছুটি
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মিরপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভারের আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ৩০৬টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কারখানায় কর্মরত ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৩ জন শ্রমিকের কাজ ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে আশুলিয়ায় ৬০ থেকে ৭০টি এবং গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ থেকে ১২টি কারখানা বন্ধের তথ্য সংশ্লিষ্ট শিল্প পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আগের দিন সোমবার কাজে যোগ না দেওয়া ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে অন্তত ৬৯০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল বলে সমিতির সূত্রে জানা গেছে।

বিজিএমইএর বৈঠকে কারখানা বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এর আগে রোববার (১ নভেম্বর) বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছিলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে ফিরে যাবেন বলে তাঁরা আশা করছেন। তবে আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে সেটিকে ভিন্ন উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ওই দিন সংগঠনটির জরুরি সভায় কয়েকজন উদ্যোক্তা সোমবার থেকেই কারখানা বন্ধ রাখার পক্ষে মত দিলেও অধিকাংশ মালিক উৎপাদন চালু রাখার পক্ষে অবস্থান নেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবং কারখানায় বিশৃঙ্খলা চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে বলে সভায় আলোচনা হয়েছিল।

এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজীপুর ও আশুলিয়ায় বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। বকেয়া বেতন, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও বিভিন্ন ভাতা বাস্তবায়নের দাবিতে শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে কর্মবিরতি ও সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড আঞ্চলিক মহাসড়কের নরসিংহপুর ও জামগড়া এলাকাতেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের দাবি, শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ নাশকতার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে শিল্পাঞ্চল পুলিশ বলছে, বহিরাগতদের উসকানিতে শ্রমিকদের একাংশ সহিংসতায় জড়াচ্ছে। তবে শ্রমিকদের মজুরি, বকেয়া পাওনা ও চাকরির নিরাপত্তার দাবির কার্যকর সমাধান না হলে শিল্পাঞ্চলের অস্থিরতা আরো বাড়তে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি শ্রমিক, মালিক ও সরকারের মধ্যে দ্রুত কার্যকর আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
সানা/আপ্র/০৩/১১/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

চাঁদাবাজির মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, জবানবন্দিতে রিয়াদের স্বীকারোক্তি
০৩ নভেম্বর ২০২৬

চাঁদাবাজির মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, জবানবন্দিতে রিয়াদের স্বীকারোক্তি

সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মি আহম্মেদের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং ১০ লাখ টাকা আদায়ের মামলায় বৈ...

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে চার নেতা স্মরণে প্রদর্শনী স্থগিত
০৩ নভেম্বর ২০২৬

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে চার নেতা স্মরণে প্রদর্শনী স্থগিত

নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে বিশেষ প্রদর্...

পুলিশের সাত গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল, বদলি ছয় এসপি
০৩ নভেম্বর ২০২৬

পুলিশের সাত গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল, বদলি ছয় এসপি

পুলিশের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদলের পাশাপাশি ছয় পুলিশ সুপারকে (এসপি) বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩...

চারদিন গ্যাস বন্ধের খবর গুজব: পেট্রোবাংলা
০৩ নভেম্বর ২০২৬

চারদিন গ্যাস বন্ধের খবর গুজব: পেট্রোবাংলা

আগামী চারদিন দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন খবরকে গুজব বলে জানিয়...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই