মাহাবুব রহমান বিপ্লব, বদরগঞ্জ, রংপুর: রংপুরের বদরগঞ্জে সরকারি বন্দোবস্তকৃত চার শতক জমিতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাড়ির প্রবেশপথে নিষেধাজ্ঞার নোটিশ ঝুলিয়েছে ভূমি অফিস। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে জমির মালিক এমদাদুল আমিনকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ কার্যালয়ে তলব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। শুনানিতে তিনি জমির দলিল ও আদালতের রায়ের কাগজ দেখালেও ভবন নির্মাণের পক্ষে পৌরসভার বৈধ অনুমতিপত্র ও অনুমোদিত নকশা দেখাতে পারেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ পৌর ভূমি অফিসসংলগ্ন সরকারি বন্দোবস্তকৃত চার শতক জমিতে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন এমদাদুল আমিন। উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তিনি নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে ওই বাড়ির প্রবেশপথে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা সংবলিত নোটিশ ঝুলিয়ে দেয় ভূমি অফিস। পরে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে ইউএনও কার্যালয়ে এমদাদুল আমিনের কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়। তিনি জমির দলিল ও আদালতের রায়ের কাগজ উপস্থাপন করেন। তবে ভবন নির্মাণের জন্য পৌরসভার অনুমতিপত্র ও অনুমোদিত নকশা চাওয়া হলে তা দেখাতে পারেননি। এ অবস্থায় আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১১টার মধ্যে পৌরসভার অনুমতিপত্র, নকশা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তাঁকে পুনরায় কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাড়িতে প্রবেশ বা নির্মাণকাজ চালালে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, পৌর ভূমি অফিসের বন্দোবস্তসংক্রান্ত ১২ নম্বর ভলিউম বইয়ে এমদাদুল হকের নামে চার শতক জমি বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়েও তাঁর নামে একটি দলিল সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভলিউম বইয়ের একটি লাইনে লাল কালিতে ‘ভুয়া’ শব্দটি লিখেছেন তদন্ত প্রতিবেদনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি। এ বিষয়ে পৌর ভূমি কর্মকর্তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বদরগঞ্জ পৌর শহরের সিও রোড, থানাপাড়া, গরুহাটি, বাঁশহাটি ও ওয়ারেছিয়া মাদ্রাসাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত কয়েক শ একর জমি প্রভাবশালীরা জবরদখল করে রেখেছেন। এসব জমিতে গোডাউন, মিল-চাতাল ও বহুতল ভবন নির্মাণ করে তাঁরা বসবাস করছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই এসব দখলদারত্ব চলছে। শুধু এমদাদুল আমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে নিরপেক্ষভাবে সব অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে এমদাদুল আমিন বলেন, তাঁর কাছে জমির বৈধ দলিল ও আদালতের রায় রয়েছে। এরপরও ভূমি অফিস থেকে বাড়ি নির্মাণ ও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যা তাঁর প্রতি অন্যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, জমির মালিককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল। প্রাথমিক পর্যালোচনায় তাঁর কাগজপত্রে বেশ কিছু গরমিল পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বাড়ি নির্মাণের জন্য পৌরসভার কোনো বৈধ অনুমতিপত্র বা অনুমোদিত নকশা তিনি দেখাতে পারেননি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আগামী রোববার তাঁকে পুনরায় হাজির হতে বলা হয়েছে।
সানা/আপ্র/০৩/১১/২০২৬