গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৯০ শতাংশে নিতে চায় সরকার

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:১০ পিএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৪:৫৫ এএম ২০২৬
২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৯০ শতাংশে নিতে চায় সরকার
ছবি

ছবি সংগৃহীত

২০৩১ সালের মধ্যে দেশে সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সাক্ষরতা শুধু পড়তে, লিখতে ও গণনা করতে পারার মৌলিক সক্ষমতা নয়; এটি মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। একজন স্বাক্ষর মানুষ তথ্য পড়া ও লেখার পাশাপাশি তা অনুধাবন ও বিশ্লেষণ করতে পারেন, প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণকে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সাংবিধানিক অঙ্গীকারের আলোকে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক ও বয়স্ক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ সাক্ষরতা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও এখনো একটি বড় জনগোষ্ঠী কার্যকর সাক্ষরতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার বাইরে রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ (প্রাক-বৃত্তিমূলক পর্যায়)’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে প্রতি জেলায় ৮০ জন করে মোট ৫ হাজার ১২০ জন ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি কোর্সে ৪৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১০০ ঘণ্টা কার্যকর সাক্ষরতা এবং ৩৬০ ঘণ্টা দক্ষতা প্রশিক্ষণ রয়েছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, এই কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো শিক্ষা থেকে কর্মে উত্তরণের সুযোগ সৃষ্টি করা। বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় নিবন্ধিত ৪ হাজার ৩১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮ জন সক্ষম হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন বা ৯২ দশমিক ৪৭ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ৬০৩ জন সরাসরি কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন, ৮৭৯ জন শোভন কাজে শিক্ষানবিশ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন এবং ১ হাজার ৩০৪ জন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। এ ছাড়া ৪৮৯ জন উদ্যোক্তা হওয়ার লক্ষ্যে পরামর্শকের অধীনে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করছেন। আরও ৪৫৮ জন বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর প্রথম স্তরে এবং ১০৪ জন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি (ভোকেশনাল) কার্যক্রমে ভর্তি হয়েছেন।

‘সাক্ষরতার সঙ্গে যখন দক্ষতা যুক্ত হয়, তখন তা মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনে’—বলে মন্তব্য করেন ববি হাজ্জাজ।

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল্প শিক্ষা সুযোগ কার্যক্রমের আওতায় দেশের ৬৪ জেলার নির্বাচিত ৬৪টি উপজেলায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৯ হাজার ২০০ বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু-কিশোরকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মৌলিক শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আরো ১৯ হাজার ২০০ জন ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণকে জীবিকায়ন দক্ষতা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতা কার্যক্রম আরও ১৬টি জেলায় সম্প্রসারণ করে তিন বছরে ১ লাখ কিশোর-কিশোরীকে এ কার্যক্রমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি অর্থবছরে বিশেষ কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৫০টি জেলায় আরো ৪ হাজার কিশোর-কিশোরীকে প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করার লক্ষ্যে ‘প্রত্যেকে একজনকে শেখাবে’ মডেলের আলোকে প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতা ও কার্যকর সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাইলট পর্যায়ে ৪০টি জেলার ৪০টি উপজেলায় ৩৫ হাজার নিরক্ষর নারী-পুরুষকে প্রায়োগিক সাক্ষরতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, পাইলট কর্মসূচির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী ও পুরুষকে প্রায়োগিক সাক্ষরতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০৩১ সাল নাগাদ দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।

এসি/আপ্র/০৭/০৯/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিচারকদের মতো শিক্ষকদের জন্যও পৃথক পে-স্কেল হবে: শিক্ষামন্ত্রী
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিচারকদের মতো শিক্ষকদের জন্যও পৃথক পে-স্কেল হবে: শিক্ষামন্ত্রী

বিচার বিভাগের আওতাধীন বিচারকদের জন্য যেমন পৃথক পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো রয়েছে, তেমনি শিক্ষকদের জন্যও...

১০০ শিক্ষককে সম্মাননা দেবে সরকার, প্রত্যকে পাবেন এক লাখ টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১০০ শিক্ষককে সম্মাননা দেবে সরকার, প্রত্যকে পাবেন এক লাখ টাকা

শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সারা দেশের ১০০ গুণী শিক্ষককে এক লাখ করে এক কোটি টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।...

দেশের গ্রামীণ এলাকায় ১০ জনে প্রায় একজন মানসিক সমস্যায়
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের গ্রামীণ এলাকায় ১০ জনে প্রায় একজন মানসিক সমস্যায়

বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের প্রায় একজন উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি উদ্বেগ বা বি...

নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখাতে জাকসুর মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখাতে জাকসুর মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস গঠন এব...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই