গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

দেশের গ্রামীণ এলাকায় ১০ জনে প্রায় একজন মানসিক সমস্যায়

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৫৫ পিএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৩০ এএম ২০২৬
দেশের গ্রামীণ এলাকায় ১০ জনে প্রায় একজন মানসিক সমস্যায়
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের প্রায় একজন উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি উদ্বেগ বা বিষণ্নতার উপসর্গে ভুগছেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) এক শিক্ষকের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘হেলথ সায়েন্স রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত গবেষণায় মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার যৌথ উপস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রধান ঝুঁকির কারণগুলো শনাক্ত করা হয়েছে।

জাককানইবির পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক ড. মোহাম্মদ রকি খান চৌধুরীর নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া স্যান ডিয়েগো, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার মনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা অংশ নেন।

গবেষণায় ২০২১ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ঝিনাইদহ জেলার একটি গ্রামীণ এলাকার ১ হাজার ৬০৩ জন প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ ক্ষেত্রে বহুধাপীয় র‍্যান্ডম নমুনা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের উদ্বেগ ও বিষণ্নতার উপসর্গ শনাক্তে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জিএডি-৭ ও পিএইচকিউ-৯ স্কেল ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি তিন দফায় রক্তচাপ পরিমাপ করে উচ্চ রক্তচাপের অবস্থা নির্ণয় করা হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৮ দশমিক ৭ শতাংশের মধ্যে একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ এবং উদ্বেগ বা বিষণ্নতার উপসর্গ ছিল। এর মধ্যে ৫ দশমিক ২ শতাংশের ক্ষেত্রে উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও উচ্চ রক্তচাপ—তিনটিই একসঙ্গে পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ২ দশমিক ২ শতাংশের ক্ষেত্রে বিষণ্নতা ও উচ্চ রক্তচাপ এবং ১ দশমিক ৩ শতাংশের ক্ষেত্রে উদ্বেগ ও উচ্চ রক্তচাপ একসঙ্গে শনাক্ত হয়েছে।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে উদ্বেগ বা বিষণ্নতার উপসর্গ থাকার হার ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। নারীদের ক্ষেত্রে এ হার ১১ দশমিক ১ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের মধ্যে তা ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এমন ব্যক্তি, গৃহিণী, স্থূলতায় আক্রান্ত এবং বেশি কোমর-নিতম্ব অনুপাতের ব্যক্তিদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার যৌথ উপস্থিতির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্যগত অবস্থার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ২৩ দশমিক ৩ শতাংশ, হৃদ্‌রোগে আক্রান্তদের ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ১৩ দশমিক ৭ শতাংশের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি উদ্বেগ বা বিষণ্নতার উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

ঝুঁকির কারণ বিশ্লেষণে গবেষকেরা গ্র্যাডিয়েন্ট বুস্টিং, কে-নিয়ারেস্ট নেবার, লজিস্টিক রিগ্রেশন, র‍্যান্ডম ফরেস্ট, সাপোর্ট ভেক্টর মেশিন এবং এক্সট্রিম গ্র্যাডিয়েন্ট বুস্টিং—এই ছয়টি মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করেন। এর মধ্যে সাপোর্ট ভেক্টর মেশিন সবচেয়ে কার্যকর ফল দেয়। পরে শ্যাপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন ঝুঁকির কারণের গুরুত্ব নির্ধারণ করা হয়।

বিশ্লেষণে হৃদ্‌রোগকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাসকারী হিসেবে পাওয়া গেছে। এরপর রয়েছে উচ্চ রক্তচাপের পারিবারিক ইতিহাস, ধূমপানের ইতিহাস, দীর্ঘমেয়াদি রোগ, তামাক ব্যবহার, শিক্ষার স্তর, কোমর-নিতম্ব অনুপাত, কর্মসংস্থানের অবস্থা, শরীরের ভরসূচক ও বয়স।

গবেষকদের মতে, হৃদ্‌রোগ ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা শরীরে প্রদাহ এবং মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। অন্যদিকে উচ্চ রক্তচাপের পারিবারিক ইতিহাস একজন ব্যক্তিকে জিনগতভাবে বেশি ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। ধূমপান ও তামাক ব্যবহার রক্তনালির ক্ষতি এবং স্নায়ুতন্ত্রে পরিবর্তন ঘটিয়ে একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

গবেষকেরা বলছেন, গ্রামীণ বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক স্বাস্থ্যকে পৃথক স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে না দেখে সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস রয়েছে এমন মানুষ এবং ধূমপায়ী ও তামাক ব্যবহারকারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

পাশাপাশি ধূমপান ছাড়ার কর্মসূচি, পরিবারভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা যুক্ত করা এবং ব্যাপক স্ক্রিনিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা।

তবে গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এটি দেশের একটি নির্দিষ্ট গ্রামীণ এলাকায় পরিচালিত হওয়ায় এর ফলাফল বাংলাদেশের সামগ্রিক গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযোজ্য নাও হতে পারে। এ ছাড়া গবেষণাটি ক্রস-সেকশনাল হওয়ায় উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে সরাসরি কারণ-সম্পর্ক নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

গবেষকেরা আরো জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণ শনাক্তে ব্যবহৃত মেশিন লার্নিং মডেল কার্যকর হলেও এর পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা মাঝারি পর্যায়ের ছিল। তাই গবেষণার ফলাফলকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে গবেষণার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এসি/আপ্র/০৬/০৯/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা
১৭ অক্টোবর ২০২৬

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা

যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে ‘সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল’ স্থাপন করা সম্ভব, সেসব প্রতিষ্ঠানের ছাদের প...

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির সভাপতি সুমন, সম্পাদক শিবলী
১৭ অক্টোবর ২০২৬

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির সভাপতি সুমন, সম্পাদক শিবলী

মাহফুজ আলম সোহাগ, জাবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির (বাপাজস) ২০২৭-২০২৮ মে...

রক্তের বিনিময়ে শিক্ষার অধিকার, আজ ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবস
১৭ অক্টোবর ২০২৬

রক্তের বিনিময়ে শিক্ষার অধিকার, আজ ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবস

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক ও শ...

অপরাধের ভিডিও করায় সাংবাদিককে হুমকি, ফোন থেকে ভিডিও মুছল শিক্ষার্থীরা
১৬ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধের ভিডিও করায় সাংবাদিককে হুমকি, ফোন থেকে ভিডিও মুছল শিক্ষার্থীরা

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংঘর্ষ ও মারধরের ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকের ম...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: প্রধানমন্ত্রী

দেশের বিভিন্ন স্থানে ও কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির পেছনে পলাতক স্বৈরাচার ও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে তাঁর কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে দাবি করে তিনি বলেছেন, এক পক্ষ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে, অন্য পক্ষ দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 ঘন্টা আগে