গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

শিক্ষকের মর্যাদায় শিক্ষার মুক্তি

বিক্ষোভের দিন ফুরাক, বিকাশের দিন শুরু হোক

Super Admin

Super Admin

প্রকাশিত: ১৫:০২ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০০:৫৪ এএম ২০২৬
বিক্ষোভের দিন ফুরাক, বিকাশের দিন শুরু হোক
ছবি

বিক্ষোভের দিন ফুরাক, বিকাশের দিন শুরু হোক

শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তবে শিক্ষক সেই মেরুদণ্ডের প্রধান শক্তি। অথচ আমাদের বাস্তবতায় এই শক্তিকেই দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হতে হয়েছে। শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার প্রশ্নে রাজপথ, মানববন্ধন, বিক্ষোভ-এসব যেন এক অনিবার্য পরিণতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব কিংবা শিক্ষা ভবন-এর সামনে বছরের পর বছর ধরে চলা কর্মসূচি আমাদের শিক্ষা-ব্যবস্থার অন্তর্গত অসামঞ্জস্যেরই প্রতিচ্ছবি।

এই প্রেক্ষাপটে গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন-এর ঘোষণা-শিক্ষকদের আর রাজপথে নামতে হবে না, সরকার পর্যায়ক্রমে যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবে-নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। বাজেট-সংকটের কথা স্বীকার করেও তিনি দাবি উপস্থাপন ও সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘করি না, করব না, করতে দেব না’-মন্ত্রীর এই অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কিন্তু প্রশ্ন, আশ্বাস কি আস্থায় রূপ নেবে?

শিক্ষকদের পেশাগত উৎকর্ষতা নিয়ে এ দেশে কখনোই ধারাবাহিক ও যুগোপযোগী পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। কম বেতন, অনিশ্চিত অবসরভাতা, কল্যাণ ট্রাস্টের জটিলতা-এসব বাস্তবতা একজন শিক্ষককে পেশায় একাগ্র হতে দেয় না। সংসার চালাতে অনেকে বাধ্য হন প্রাইভেট পড়ানো বা বিকল্প আয়ের পথে হাঁটতে। ফলে মূল শিক্ষাদান কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে। আবার অনেকক্ষেত্রে শিক্ষকদের অর্থলোভ বা দায়বদ্ধতার অভাব থেকে দায়িত্বে অবহেলার ঘটনাও ঘটে-যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে কেবল বেতন বাড়ালেই কাঙিক্ষত পরিবর্তন আসবে না। এনটিআরসি-এর নিয়োগপ্রক্রিয়া, স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির কার্যক্রম-সবকিছুতেই কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। একজন ব্যক্তিকে একাধিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব না দেওয়ার চিন্তা ইতিবাচক; তবে সেটি বাস্তবায়নে কঠোরতা জরুরি। শিক্ষক নিয়োগেও থাকতে হবে কঠোর মানদণ্ড। কারণ শিক্ষকতা শুধু চাকরি নয়, এটি একটি নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দায়বদ্ধতা।

আমরা চাই না শিক্ষক রাজপথে দাঁড়িয়ে নিজের প্রাপ্য ভিক্ষা করুন; আমরা চাই শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি জ্ঞানের আলোকবর্তিকা হোন। সে জন্য প্রয়োজন সম্মানজনক বেতন, নিরবচ্ছিন্ন প্রশিক্ষণ, গবেষণার সুযোগ এবং সামাজিক মর্যাদা। একই সঙ্গে প্রয়োজন কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের কার্যকর পদ্ধতি, যাতে প্রকৃত যোগ্যরা উৎসাহিত হন এবং অযোগ্যরা ছিটকে পড়েন।

সরকার যদি সত্যিই শিক্ষা খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে, তবে সেই গুরুত্বের প্রথম প্রতিফলন দেখা উচিত শিক্ষকের জীবনে। উন্নত শিক্ষা-ব্যবস্থা কেবল কারিকুলাম বা অবকাঠামো দিয়ে গড়ে ওঠে না; গড়ে ওঠে দক্ষ, সৎ ও প্রেরণাদায়ী শিক্ষক দিয়ে।

রাজপথের স্লোগান থেকে নীতিনির্ধারণের টেবিলে-এই যাত্রা সফল হোক। শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়ন কেবল একটি পেশার স্বার্থরক্ষা নয়; এটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের পূর্বশর্ত। শিক্ষকের উন্নয়নেই শিক্ষার মুক্তি-এই সত্যটি যেন আর কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে, বাস্তবেও প্রতিফলিত হয়।

সানা/আপ্র/২৪/২/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ঋণের ফাঁদে বিপন্ন জনজীবন
২০ অক্টোবর ২০২৬

আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, ঋণের ফাঁদে বিপন্ন জনজীবন

পরিবারের আয় দিয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানো মানুষের মৌলিক আর্থিক নিরাপত্তার শর্ত। অথচ দেশের ৪৭ দশমিক ৪২...

মানুষ অবকাশে যাবে, মৃত্যুফাঁদে নয়: নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক
১৯ অক্টোবর ২০২৬

মানুষ অবকাশে যাবে, মৃত্যুফাঁদে নয়: নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক

মানুষ অবকাশকেন্দ্রে যায় নিরাপদে ভ্রমণ, পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দময় সময় কাটানো এবং কর্মব্যস্ত জীবনের ক্...

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার দৃঢ় নিশ্চয়তাই হোক সম্প্রীতিময় রাষ্ট্রের ভিত্তি
১৮ অক্টোবর ২০২৬

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার দৃঢ় নিশ্চয়তাই হোক সম্প্রীতিময় রাষ্ট্রের ভিত্তি

শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালির ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বহুত্ববাদী সমাজজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনু...

শিশুদের খাদ্যনিরাপত্তায় নজরদারিহীনতা সুশাসন ও উন্নয়নের বড় অন্তরায়
১৭ অক্টোবর ২০২৬

শিশুদের খাদ্যনিরাপত্তায় নজরদারিহীনতা সুশাসন ও উন্নয়নের বড় অন্তরায়

যে বয়সে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ভিত্তি গড়ে ওঠে, যে সময়ে ভবিষ্যতের সুস্থ, কর্মক্ষম ও মেধাবী না...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই