গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

বাম্পার ফলনে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে দেশ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:১৮ পিএম, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৫০ এএম ২০২৬
বাম্পার ফলনে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে দেশ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের সুবাদে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা স্বয়ংসম্পূর্ণতার লক্ষ্যের দিকে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

কৃষক ও কৃষিবিদদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাই কম থাকা এবং সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণ—এই তিনটি কারণে এবার উৎপাদন ভালো হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ৯০০টি সংরক্ষণ স্থাপনা নির্মাণের ফলে পেঁয়াজ সংরক্ষণ ব্যবস্থাও উন্নত হয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাসির-উদ-দৌলা জানিয়েছেন, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে দেশ। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। সংকট মোকাবিলায় আমদানির সিদ্ধান্ত থাকলেও, দেশীয় উৎপাদন বেশি হওয়ায় আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে ৪২ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩৫–৩৬ লাখ টন হওয়ায় এই উৎপাদন লক্ষ্য পূরণ হলে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব।

আমদানির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত আমদানি হয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার মেট্রিক টন, যেখানে আগের বছর ছিল ৪ লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টনের বেশি।

মাঠপর্যায়ের কৃষকদের অভিজ্ঞতাও ইতিবাচক। ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারীর কৃষক পার্থ কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, এ বছর উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। একই এলাকার আরেক কৃষক সাধন হীরাও জানিয়েছেন, শতাংশপ্রতি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ প্রায় ১ হাজার টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম থাকায় তারা ভালো মুনাফার আশা করছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে আগে ২৫–৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যেত। এখন আধুনিক ‘এয়ার-ফ্লো’ পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে ৮–৯ মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কমে গিয়ে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথ আরো সুগম হবে।

সব মিলিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ সুবিধা উন্নয়ন এবং আমদানি হ্রাস—এই তিনের সমন্বয়ে পেঁয়াজ খাতে দেশের জন্য একটি ইতিবাচক মোড় তৈরি হয়েছে।

এসি/আপ্র/২৫/০৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিশ্ববাজারে আবারো বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ববাজারে আবারো বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত আরো তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েই চলেছে।...

দরপত্র ছাড়া আরো ১৮ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দরপত্র ছাড়া আরো ১৮ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ও মজুদ কমে যাওয়ায় দরপত্র ছাড়াই...

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইলিশ চায় ভারত
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইলিশ চায় ভারত

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার বাংলাদেশের ইলিশ চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। ইলিশ পাঠানোর অ...

পাঁচ মাসে রেকর্ড বিদেশি ঋণ পরিশোধ সরকারের
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাঁচ মাসে রেকর্ড বিদেশি ঋণ পরিশোধ সরকারের

দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসে রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে