চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের সুবাদে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা স্বয়ংসম্পূর্ণতার লক্ষ্যের দিকে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।
কৃষক ও কৃষিবিদদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাই কম থাকা এবং সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণ—এই তিনটি কারণে এবার উৎপাদন ভালো হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ৯০০টি সংরক্ষণ স্থাপনা নির্মাণের ফলে পেঁয়াজ সংরক্ষণ ব্যবস্থাও উন্নত হয়েছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাসির-উদ-দৌলা জানিয়েছেন, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে দেশ। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। সংকট মোকাবিলায় আমদানির সিদ্ধান্ত থাকলেও, দেশীয় উৎপাদন বেশি হওয়ায় আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে ৪২ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩৫–৩৬ লাখ টন হওয়ায় এই উৎপাদন লক্ষ্য পূরণ হলে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব।
আমদানির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত আমদানি হয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার মেট্রিক টন, যেখানে আগের বছর ছিল ৪ লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টনের বেশি।
মাঠপর্যায়ের কৃষকদের অভিজ্ঞতাও ইতিবাচক। ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারীর কৃষক পার্থ কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, এ বছর উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। একই এলাকার আরেক কৃষক সাধন হীরাও জানিয়েছেন, শতাংশপ্রতি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ প্রায় ১ হাজার টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম থাকায় তারা ভালো মুনাফার আশা করছেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে আগে ২৫–৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যেত। এখন আধুনিক ‘এয়ার-ফ্লো’ পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে ৮–৯ মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কমে গিয়ে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথ আরো সুগম হবে।
সব মিলিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ সুবিধা উন্নয়ন এবং আমদানি হ্রাস—এই তিনের সমন্বয়ে পেঁয়াজ খাতে দেশের জন্য একটি ইতিবাচক মোড় তৈরি হয়েছে।
এসি/আপ্র/২৫/০৪/২০২৬