গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মেনু

বাম্পার ফলনে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে দেশ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:১৮ পিএম, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২১:৪৩ এএম ২০২৬
বাম্পার ফলনে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে দেশ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের সুবাদে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা স্বয়ংসম্পূর্ণতার লক্ষ্যের দিকে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

কৃষক ও কৃষিবিদদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাই কম থাকা এবং সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণ—এই তিনটি কারণে এবার উৎপাদন ভালো হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ৯০০টি সংরক্ষণ স্থাপনা নির্মাণের ফলে পেঁয়াজ সংরক্ষণ ব্যবস্থাও উন্নত হয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাসির-উদ-দৌলা জানিয়েছেন, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে দেশ। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। সংকট মোকাবিলায় আমদানির সিদ্ধান্ত থাকলেও, দেশীয় উৎপাদন বেশি হওয়ায় আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে ৪২ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩৫–৩৬ লাখ টন হওয়ায় এই উৎপাদন লক্ষ্য পূরণ হলে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব।

আমদানির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত আমদানি হয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার মেট্রিক টন, যেখানে আগের বছর ছিল ৪ লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টনের বেশি।

মাঠপর্যায়ের কৃষকদের অভিজ্ঞতাও ইতিবাচক। ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারীর কৃষক পার্থ কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, এ বছর উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। একই এলাকার আরেক কৃষক সাধন হীরাও জানিয়েছেন, শতাংশপ্রতি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ প্রায় ১ হাজার টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম থাকায় তারা ভালো মুনাফার আশা করছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে আগে ২৫–৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যেত। এখন আধুনিক ‘এয়ার-ফ্লো’ পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে ৮–৯ মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কমে গিয়ে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথ আরো সুগম হবে।

সব মিলিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ সুবিধা উন্নয়ন এবং আমদানি হ্রাস—এই তিনের সমন্বয়ে পেঁয়াজ খাতে দেশের জন্য একটি ইতিবাচক মোড় তৈরি হয়েছে।

এসি/আপ্র/২৫/০৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

কম দামে ইউরিয়া সার দিতে আগ্রহী রাশিয়া
২৮ জুলাই ২০২৬

কম দামে ইউরিয়া সার দিতে আগ্রহী রাশিয়া

বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ...

সরবরাহ সংকটে কাঁচামরিচের দাম প্রায় ৩০০ টাকা
২৮ জুলাই ২০২৬

সরবরাহ সংকটে কাঁচামরিচের দাম প্রায় ৩০০ টাকা

সরবরাহ কমে যাওয়ায় বগুড়ার কাঁচামরিচের বাজারে আবারো ঊর্ধ্বমুখী দাম দেখা দিয়েছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধান...

৫ বছরে খাদ্য মজুত সক্ষমতা হবে ৩৪ লাখ টন
২৮ জুলাই ২০২৬

৫ বছরে খাদ্য মজুত সক্ষমতা হবে ৩৪ লাখ টন

দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত নিরাপদ সীমার অনেক ওপরে রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারি খ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 ঘন্টা আগে