গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মেনু

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি দেখে ‘হতভম্ব’ ও ‘স্তম্ভিত’ সিপিডি

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:০০ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২৩:০৫ এএম ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি দেখে ‘হতভম্ব’ ও ‘স্তম্ভিত’ সিপিডি
ছবি

শনিবার সিপিডির ব্রিফিংয়ে কথা বলেন গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম -ছবি সংগৃহীত

একটি অনির্বাচিত সরকার হয়েও বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে তা দেখে ‘হতভম্ব’ ও ‘স্তম্ভিত’ হওয়ার কথা বলেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি।
 

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছে, এই ধরনের একটি চুক্তি কীভাবে একটি সরকার, অনির্বাচিত সরকার করে যেতে পারে, যার দায় চাপবে নির্বাচিত সরকারের ওপর। নতুন সরকারের ১৮০ দিন এবং তারপর কী করতে হবে, তা নিয়ে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সিপিডির তরফে ব্রিফিং করছিলেন তিনি।
 

গেল ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন দিয়ে বিদায় নেয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। তার তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকার বাণিজ্য চুক্তি হয়। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সিপিডির গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আপনাদের সকলের খেয়াল থাকবে যখন শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছিল তখন আমাদেরকে, সাধারণ মানুষকে ধারণা দেওয়া হল, শুধুমাত্র শুল্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। আপনাদের নিশ্চয়ই খেয়াল আছে, শুধু শুল্ক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ‘সেটা কি? এটা ৩৫ (পাল্টা শুল্ক শতাংশে) থেকে কীভাবে আমরা ২০-এ কমিয়ে আনতে পারব এবং তার জন্য কিছু কিছু ক্রয় চুক্তি করলেই নাকি আমাদের এটি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু যে চুক্তিটি আসলো-এটি দেখে আমরা হতভম্ব। আমরা স্তম্ভিত।’
বাড়তি সম্পূরক শুল্কের বোঝা মাথায় নিয়ে নয় মাসের আলোচনা শেষে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) নামের বাণিজ্য চুক্তিটি করে। ভোটের ডামাডোলের কারণে এ নিয়ে আলোচনা কিছুটা আড়ালেই ছিল। চুক্তি বিষয়ে অর্থনীতিবিদ মোয়াজ্জেম বলেন, ‘এই ধরনের একটি চুক্তি কীভাবে একটি সরকার, অনির্বাচিত সরকার করে যেতে পারেন বা এই দায়টি কীভাবে একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দিয়ে যেতে পারেন। আমার কাছে মনে হয় যেকোনো একটি বিষয় যদি অন্তর্বর্তী সরকারকে নিন্দা জানানোর থাকে, তাহলে এই একটি চুক্তির জন্য আমি আসলে নিন্দা জানাতে চাই।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে বলেও তুলে ধরেন।
এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘যদিও ওটা শুল্ক সংক্রান্ত বিষয় ছিল, কিন্তু ওটিকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মতো একটি দুর্বল দেশকে যে এরকম একটি বৈষম্যমূলক চুক্তিতে বাধ্য হওয়া, এটিও আসলে ওই চুক্তিরই অংশ হতে পারে, ওই নির্দেশনার অংশ হতে পারে বলে আমরা মনে করি। সুতরাং আমার মনে হয় যে সরকার এই তিনটি বিষয়ের আলোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অ্যামিকাবলি আলোচনা করতে পারেন যে কীভাবে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা যায় এবং কীভাবে উভয় দেশ এই ধরনের চুক্তি না করে বরং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি করতে পারে যেটাতে উভয় দেশের বাণিজ্য স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকে।
এখন এসে এ ভাষায় চুক্তির সমালোচনা কেন করছেন, এ প্রশ্ন এসেছে সাংবাদিকদের তরফে।
জবাবে সিপিপির গবেষণা পরিচালক বলেন, তার বক্তব্য একইরকম ছিল। একই সঙ্গে আগেও যারা তার বক্তব্য নিয়েছেন, তার একটি অংশ তুলে না ধরায় এখন তার বক্তব্য এমন শক্ত মনে হচ্ছে। এছাড়াও সরকার কেবল শুল্ক সংক্রান্ত বিষয় সামনে এনেছিল; অন্য বিষয়ে তিনিসহ সকলের অজ্ঞতার বিষয়টি তুলে ধরে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘শুধু ট্যারিফ পার্টটি নিয়ে আমি বলেছিলাম যে ট্যারিফ পার্টটি নিয়েও এটা ডব্লিউটিও (বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা) নীতিবিরোধী। এবং এটা কোনোভাবেই বাংলাদেশের জন্য খুব... আপনারা বলছিলেন যে, হ্যাঁ চীন বা ভারতের সাথে আমাদের একটা বড় পার্থক্য তৈরি হচ্ছে, আমাদের অসুবিধা কোথায়। কিন্তু আমি তখন এটাও বলেছিলাম যে চীন ভারতের এই বৈষম্যের জন্য এরা এখন তাদের পণ্য ইউরোপে পাঠাবে কম দামে। এই যে এখন দেখেন ইউরোপে আমি আমার পণ্য এক্সপোর্ট করতে পারছি না। কেননা কম দামি চাইনিজ পণ্য ওই মার্কেটগুলো দখল করে নিচ্ছে। এবং এটাও বলেছিলাম যে উচ্চমূল্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা কিনতে পারবে না, ওখানে মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়বে।’
তিনি বলেন, ‘আমি এখনো মনে করি যে বাণিজ্য নিয়ে দরকষাকষি ডব্লিউটিও ফ্রেমে হওয়া দরকার এবং ডব্লিউটিও-র মেইন গাইডলাইন, এখানে প্রিন্সিপাল ফলো করা দরকার।’

গভর্নরের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় চায় সিপিডি: বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের মধ্যে গভর্নরের পদ থেকে আহসান এইচ মনসুরের বিদায় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘আনুষ্ঠানিকভাবে’ বিদায় দেবেন, এমন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছে সিপিডি। নানান নাটকীয়তার মধ্যে বুধবার বিকালের দিকে ব্যবসায়ী ও হিসাববিদ মো. মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নরের দায়িত্ব দেয় তারেক রহমানের বিএনপি সরকার।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট অর্থনীতিবিদ আহসান মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব দেয়। তার নেতৃত্বে শুরু হয় ব্যাংক খাতের সংস্কারের কাজ। গভর্নরের বিদায় প্রক্রিয়া নিয়ে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আমি বরং যেটা প্রত্যাশা করব এই সরকারের কাছে, এই সরকার যাতে প্রাক্তন গভর্নর মহোদয়কে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) যাতে গভর্নর মহোদয়কে তার দপ্তরে যাতে আমন্ত্রণ জানান। এবং আমন্ত্রণ জানিয়ে তাকে যেন আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান। এটি আমি প্রত্যাশা করব।
সংস্কার কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য আহসান মনসুরকে গভর্নর হিসেবে রাখা দরকার ছিল বলেও তিনি মনে করেন।
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আমি আসলে মনে করেছিলাম যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো খুব বেশি প্রাধিকার পায়নি। কিন্তু যে জায়গাগুলোতে আর্থিক খাতের যে সংস্কারগুলো যেগুলো হয়েছে সেটা আসলে অনেকটাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়েছে অর্থাৎ ব্যক্তি উদ্যোগে হয়েছে। যিনি গভর্নর মহোদয় ছিলেন, তিনি এই খাতে দক্ষ, অভিজ্ঞ, অন্য অনেকের অদক্ষতার পরেও কিন্তু উনি নিজস্ব এলাকাতে কাজ করেছেন। দক্ষতা ছিল তার এবং সে অনুযায়ী তিনি এখানে কাজ করেছিলেন।
সংস্কারের ক্ষেত্রে অনেকগুলো উদ্যোগ নিয়ে আহসান মনসুর বেশ সফল হয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে এই ধরনের সংস্কার কখনোই সকল পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে পারে না এবং সংস্কার সবসময়ই আসলে এক ধরনের বাধার সৃষ্টি করে এবং এর পেছনে একটা স্বার্থগোষ্ঠী সবসময়ই কাজ করে। কিন্তু তিনি সেগুলোর মধ্যেও এমনকি আমি যতটুকু জানতাম যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরেও তার যে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন, তাও না। কিন্তু তিনি তার মতো করে নিজস্ব যুক্তিচুক্তি দিয়ে সেগুলোকে তিনি এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন এবং করেছিলেন।’
এ অর্থনীতিবিদ বলেন, সেই কারণেই আমার মনে হয়েছে যে এগুলোকে যদি অব্যাহত রাখতে হয় নতুন সরকারের সময়ে, তাহলে ওনার মতো একজন ব্যক্তিকে সরকার নিয়ে কন্টিনিউ করতে পারেন। আমি এখনো মনে করি যে উনি থাকলে এই সরকারের জন্য অন্তত সংস্কারের জায়গাগুলোতে ভালো হতো, এমনকি ওই যে আর্থিক খাতে যে ফিরে আসার প্রক্রিয়া এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াটাও অব্যাহত থাকতো।
এ সময় ভারতের গভর্নর নিয়োগ প্রক্রিয়ার উদাহরণ টেনে বাংলাদেশের নিয়োগ প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছতা বাড়ানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়াতে আলাদা করে একটি কমিটি রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে। যে কমিটির ভেতরে অর্থ সচিব এবং অন্যান্য প্রাক্তন গভর্নর এবং অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ মিলে তারা একটি শর্টলিস্ট করেন।

ভারতে গভর্নর পদে আবেদনের শর্তের বিষয়টি তুলে ধরে সিপিডির গবেষণা পরিচালক বলেন, তার অন্তত ২০ বছর এই খাতে অভিজ্ঞতা এবং প্রতিষ্ঠান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। আর্থিক খাতে খালি অভিজ্ঞতা না, আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চালানোর তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি প্রাজ্ঞ হবেন এবং তার এই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার মাস্টার্স পিএইচডি থাকতে পারে, সেটি এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এবং তার এই প্রতিষ্ঠান চালানোর অভিজ্ঞতার বিষয়টিকে এখানে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সেই বিবেচনায় যদি আমি বর্তমান নতুন গভর্নর মহোদয়কে বিবেচনা করি, তাহলে আমার কাছে মনে হয়েছে যে বর্তমান সরকার গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি দুর্বল পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ অর্থনীতিবিদ বলেন, এই গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে আমার মনে হয় যে একটা দুর্বল প্রক্রিয়া যেমন করা হয়েছে, প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছ।

জ্বালানি রূপান্তরে প্রতিবন্ধকতা তৈরির শঙ্কা: বিএনপি সরকার তাদের ১৮০ দিনের পথনকশায় কয়লা উত্তলোন করে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার যে ইঙ্গিত দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করলে জ্বালানি রূপান্তর ‘বড় প্রতিবন্ধকতা’ তৈরি করবে বলে সতর্ক করেছে সিপিডি। এ ধরনের উদ্যোগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আরো পিছিয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আমরা দেখতে পেয়েছি বিএনপির রোডম্যাপের ভিতরে নতুন করে দেশে কয়লা উত্তোলনের এক ধরনের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। আমরা মনে করি যে কয়লা উত্তোলন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় রকমের জ্বালানি রূপান্তরের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। এবং এটা নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আরো পিছিয়ে দেবে। এ সময় সরকারকে এ ধরনের উদ্যোগ থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সরকারের উচিত এই কয়লা সংক্রান্ত যে কোনো ধরনের উত্তোলনের উদ্যোগ থেকে সরে আসা। এবং আমরাও আগামী দিনে সরকারের এই সংক্রান্ত উদ্যোগগুলো পর্যবেক্ষণ করব।

সরকারের আগামী দিনে কী করা উচিৎ সে পরামর্শ দিয়ে অর্থনীতিবিদ বলেন, আমরা মনে করি যে আগামী ১০০ দিনের জন্য যেটা হবে যে ডিমান্ড ক্যাপটি (বিদ্যুতের চাহিদা) নিশ্চিত করা, নো ইলেকট্রিসিটি নো পে-র ((বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ক্যাপাসিটি পেমেন্টের বিপরীতে) যে উদ্যোগগুলো এটি ফিক্স করা। এবং আমরা মনে করি যে এই সরকারের একটা নতুন উদ্যোগ দরকার ‘নো নিউ ফসিল ফুয়েল বেজড পাওয়ার জেনারেশন’। আমরা মনে করি সরকারের একটি নতুন নীতি নেওয়া উচিত ‘আর কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়’-এরকম একটি নীতিতে সরকারের অবস্থান নেওয়া উচিত।
সিপিডির তরফে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আমরা ১৮০ দিনের পরে যে কাজগুলো মনে করি যে গ্রিডের আধুনিকায়নের জন্য স্ট্রেস টেস্ট, ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিস্টেম অপারেটর, জোনাল এনার্জি অডিট, রিসোর্স টু গ্রিড ডেটা হাব, নো নিউ কোল পাথওয়ে-এই ধরনের কাজগুলোতে সরকারের কাজ করা দরকার। এবং স্মার্ট গ্রিড স্থাপনের জন্য সরকারের কাজ করা দরকার রয়েছে। আমরা যদি প্রাইমারি এনার্জির দিকে তাকাই তাহলে প্রাইমারি এনার্জির ক্ষেত্রে আমরা গ্যাস শর্টেজটা আপনারা সকলেই জানেন এই মুহূর্তে একটা বড় চ্যালেঞ্জ বা মাথাব্যথার কারণ এই সরকারের। তিনি বলেন, তবে এরজন্যও এলএনজি আমদানিকে ‘কখনোই সমাধান হতে পারে’ বলে সিপিডি মনে করে না। এ ক্ষেত্রে জ্বালানি সংকট সমাধানে কী করা যেতে পারে সে প্রসঙ্গেও কথা বলেন গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, আমরা মনে করি যে সরকারের এই মুহূর্তে অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৩ এবং অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৩ এগুলো বিএনপি সরকার যাতে মূল্যায়ন করে। দ্রুত যাতে এগুলো ফ্লোট করে যাতে করে আমাদের অনশোর এবং অফশোরে বঙ্গোপসাগরে আমাদের সম্ভাবনা রয়েছে সেই জায়গাগুলো এবং অনশোরে আমাদের সম্ভাবনা রয়েছে সেই জায়গাগুলো আমরা যেন দ্রুত আমরা এগুলো দেখি। এ মডেলের আওতায় নীতিমালা মেনে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও আবিষ্কৃত খনিজ সম্পদের অংশীদারত্ব চূড়ান্ত করে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে কাজ দেওয়া যায়।
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, তবে যেটি আপনাদেরকে আগেও বলেছি যে কোনোভাবেই আমরা কয়লা ভিত্তিক কয়লা এক্সপ্লোরেশন এবং কয়লা ভিত্তিক নতুন কোনো বিদ্যুৎ কাঠামোকে আমরা সমর্থন করি না এবং একইভাবে আমরা এলএনজির কোনো নতুন করে তার কোনো এক্সপ্যানশন এই বিষয়টিকেও আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করছি না। সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে রাজস্ব খাতের ‘লিকেজ’ বন্ধ, কর ন্যায্যতা নিশ্চিত, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে তিন ও দুই ধাপে নিয়ে আসা। এবং সব শেষ একক হারে নিয়ে আসার পরামর্শ দেয় সিপিডি। তিন ধাপের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ, কর ছাড় দিয়ে একটি ধাপ এবং শূন্য রাখার কথা তুলে ধরেন গোলাম মোয়াজ্জেম।
সানা/আপ্র/২৮/২/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বাড়ালো আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাড়ালো আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়

২০২৫-২০২৬ করবর্ষের জন্য ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩১ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্...

সোনার দাম আরো বাড়লো, ভরি ২৬৫৪১৪ টাকা
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সোনার দাম আরো বাড়লো, ভরি ২৬৫৪১৪ টাকা

দেশের বাজারে সোনার দাম আরো বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪...

৩০০ টাকা সাশ্রয়ে তিন ঘণ্টার সংগ্রাম
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৩০০ টাকা সাশ্রয়ে তিন ঘণ্টার সংগ্রাম

টিসিবির ট্রাক সেল

কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ

১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রু...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই