নারীর সৌন্দর্যকে নারীরাই তুলনামূলকভাবে বেশি মূল্যায়ন করেন-এমনই এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। গবেষণায় দেখা গেছে, একজন গড়পড়তা নারীর চেহারা পুরুষদের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি আকর্ষণীয় হিসেবে নারীদের কাছেই মূল্যায়িত হয়েছে।
তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সৌন্দর্য-ব্যবধান ধীরে ধীরে কমে আসে এবং ৮০ বছর বয়সে পৌঁছালে তা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী ‘প্রোসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি’-তে। এতে বলা হয়, বিশ্বের ৭৬টি দেশে পরিচালিত ৫২টি আলাদা গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ডেটাসেট। এতে প্রায় ৩০ হাজার মূল্যায়নকারীর দেওয়া ১৭ হাজার মুখমণ্ডলের প্রায় ১৫ লাখ রেটিং অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গবেষকদের মতে, নারীদের প্রতি এই তুলনামূলক বেশি আকর্ষণ বৈশ্বিকভাবে প্রায় সব সংস্কৃতিতেই দেখা যায়, যদিও পশ্চিমা দেশগুলোতে এর মাত্রা আরো স্পষ্ট। একই সঙ্গে দেখা গেছে, নারী ও পুরুষ উভয়ই নারীর গোলাকার মুখাবয়বকে বেশি আকর্ষণীয় বলে মনে করেন।
জার্মানির ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর এম্পিরিক্যাল অ্যাসথেটিকস-এর গবেষক ড. ইউজেন ভাসিলিভিটস্কি বলেন, এটি একটি শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা, যা বিভিন্ন সংস্কৃতিতেই দেখা যায়। তার মতে, নারীরাই অন্য নারীদের সৌন্দর্যকে বেশি উচ্চ রেটিং দিয়েছেন, আর পুরুষদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম মূল্যায়ন পাওয়া গেছে।
গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, মানুষের এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রাণিজগতের প্রচলিত যৌন নির্বাচনের ধারণা থেকে ভিন্ন। যেখানে অনেক প্রাণীর ক্ষেত্রে পুরুষদের বাহ্যিক আকর্ষণীয়তা বেশি থাকে, সেখানে মানুষের ক্ষেত্রে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের পাশাপাশি ভিন্ন ধরনের মনস্তাত্ত্বিক কারণ কাজ করতে পারে।
গবেষকদের মতে, মুখের গঠনগত পার্থক্যও এ প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রাখে। সাধারণত পুরুষদের মুখ কিছুটা কোণাকৃতি এবং নারীদের মুখ তুলনামূলকভাবে গোলাকার হওয়ায় তা অধিক আকর্ষণীয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষ ও নারীর মুখাবয়বের পার্থক্য কমে আসে। এর ফলে সৌন্দর্য-ব্যবধানও ক্রমশ হ্রাস পায় এবং প্রবীণ বয়সে গিয়ে তা প্রায় সমান হয়ে যায়।
গবেষকদের মতে, এই ফলাফল সমাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত সৌন্দর্য ও লিঙ্গভিত্তিক ধারণাকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, এ প্রবণতার পেছনে একক কোনো কারণ নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা এখনো সম্ভব হয়নি।
সানা/ডিসি/আপ্র/৩১/৫/২০২৬