টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির প্রভাবে দিনাজপুরের বাজারে হঠাৎ বেড়ে গেছে কাঁচামরিচের দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা দরে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে বিভিন্ন মসলা ও সবজির দামও, ফলে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার, সুইহারী, রামনগর, উপশহর ও পুলহাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, দিনাজপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে টানা বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় বাজারে সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম দ্রুত বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হলেও চালান আগামী শনিবার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে আমদানি হওয়া মরিচের বেশিরভাগই ঢাকাসহ বড় বড় আড়তে চলে যাওয়ায় দিনাজপুরের বাজারে এর তেমন প্রভাব পড়ে না। এ কারণে স্থানীয় বাজারে সংকট কাটছে না।
কাঁচামরিচের পাশাপাশি অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সবজির দামও বেড়েছে। বর্তমানে পটোল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা এবং শসা ১০০ টাকা কেজি দরে।
বাহাদুর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আতাউর রহমান বলেন, সবজির দাম এমনিতেই বেশি, তার ওপর কাঁচামরিচ ২৫০ টাকা কেজি হওয়ায় আগের মতো এক পোয়া কেনা সম্ভব হচ্ছে না। এখন ২৫ টাকায় মাত্র ১০০ গ্রাম মরিচ কিনতে হচ্ছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
জেলার চিরিরবন্দর, বিরল, বীরগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর, ফুলবাড়ী ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বাজারগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।
বিরামপুরের ব্যবসায়ী কুদ্দুস আলী বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। ফলে বেশি দামে কিনে এনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাহাদুর বাজারের ব্যবসায়ী সহরাফ আলী বলেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। ভারত থেকে মরিচ এলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে, তবে তা বাজারে পৌঁছাতে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে।
কৃষকরাও বলছেন, অতিবৃষ্টি ও তাপমাত্রার তারতম্যে মরিচ গাছ নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমেছে। ফুলবাড়ী উপজেলার মাদিরাহাট গ্রামের কৃষক জনাব আলী জানান, ১০ কাঠা জমির মরিচক্ষেত থেকে ১৫ দিন পর মাত্র ২০ কেজি মরিচ তুলতে পেরেছেন। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন।
সদর উপজেলার উলিপুর গ্রামের কৃষক জুয়েল ইসলাম বলেন, ৫০ শতক জমিতে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয়ে মরিচ চাষ করেছেন। কিন্তু বৃষ্টিতে গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এক হাজার গাছ থেকে মাত্র ৪৪ কেজি মরিচ সংগ্রহ করতে পেরেছেন। পাইকারি বাজারে ২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও উৎপাদন কম হওয়ায় লোকসান এড়ানো যাচ্ছে না।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আনিছুজ্জামান জানান, চলতি খরিফ-১ মৌসুমে জেলায় ৬৬৮ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে, যার সম্ভাব্য উৎপাদন এক হাজার ৭৩২ টন। একই সঙ্গে খরিফ-২ মৌসুমে আরও ১০৩ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের প্রস্তুতি চলছে।
দিনাজপুর কৃষি বিপণন বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা রবিউল হাসান বলেন, টানা বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে, ফলে কাঁচামরিচের দাম দিন দিন বাড়ছে।
এসি/আপ্র/২২/০৭/২০২৬