কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সৃজনশীল কাজের সহায়ক হতে পারে, তবে কখনোই মানুষের অনুভূতি, আত্মা বা আবেগের বিকল্প হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন খ্যাতনামা হলিউড চলচ্চিত্র নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গ।
তার মতে, এআইকে শুধুমাত্র একটি টুল বা হাতিয়ার হিসেবে সীমিত ব্যবহারেই গ্রহণযোগ্য, কিন্তু সৃজনশীল সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব কখনোই এর হাতে দেওয়া উচিত নয়।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে এআইয়ের ভূমিকা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন এই কিংবদন্তি পরিচালক। তিনি বলেন, সৃজনশীল প্রক্রিয়ায় মানুষের জায়গা এআই দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয় এবং এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন।
স্পিলবার্গ বলেন, “আমি মানুষের জায়গায় অন্য কিছু বসাতে রাজি নই। মানুষের আবেগ বা আত্মার কোনো বিকল্প কোনো কৃত্রিম অ্যালগরিদম দিয়ে তৈরি করা সম্ভব নয়।”
তিনি আরো জানান, এআই কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে-যেমন লোকেশন স্কাউটিং বা প্রাথমিক প্রোডাকশন কাজ সহজ করা-কিন্তু চলচ্চিত্র নির্মাণের মৌলিক সিদ্ধান্ত, যেমন সংলাপ লেখা, ক্যামেরা স্থাপন বা সেট ডিজাইন বিষয়ে এআইয়ের পরামর্শ তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।
স্পিলবার্গের ভাষায়, “এআইকে কেবল একটি টুল হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। সৃজনশীল কোনো বিষয়ে এআইকে শেষ কথা বলতে দেওয়া যাবে না-এখানেই আমি আমার সীমারেখা টেনেছি।”
তার মতে, প্রযুক্তির অগ্রগতি চিকিৎসা বা জটিল সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখলেও শিল্প ও সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা অপরিবর্তনীয়।
সাক্ষাৎকারে তিনি তার আসন্ন চলচ্চিত্র নিয়েও কথা বলেন, যেখানে ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব নিয়ে কাহিনি নির্মাণ করা হয়েছে। স্পিলবার্গ বলেন, মহাবিশ্বে অন্য কোথাও প্রাণ নেই-এমন ধারণা বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিকভাবে অসম্ভব বলেই তিনি মনে করেন।
তিনি আরো বলেন, “আমার মনে জোরালো সন্দেহ আছে, আমরা একা নই। এই ধারণা থেকেই আমি সিনেমাটি তৈরি করেছি।”
সানা/ডিসি/আপ্র/৩১/৫/২০২৬