মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত শর্ত না মানলে ইরানের সঙ্গে আবারো যুদ্ধ শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ সক্ষম বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন। এসব শর্তের মধ্যে অন্যতম হলো ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।
গত শনিবার (৩০ মে) এ হুঁশিয়ারি আসে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের একাধিক বক্তব্য ও সামরিক মহলের অবস্থান থেকে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক নিরাপত্তা সম্মেলনে বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারো সামরিক সংঘাতে যেতে প্রস্তুত এবং সেই সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাছাকাছি পৌঁছেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।
মার্কিন সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তি ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকলেও গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বৈঠকের পরও তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
এদিকে সিঙ্গাপুরে এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে অংশ নিয়ে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পুরো অঞ্চলজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে যুদ্ধ শুরু করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। একই অবস্থান জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দেশটির সামরিক বাহিনী একটি মার্কিন-ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে। এ ছাড়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনার ঘটনায় চুক্তি কার্যকরের প্রচেষ্টা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের শর্ত প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, তবে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে আরো বলা হয়েছে, আলোচনার পরবর্তী ধাপে যেতে হলে অবরুদ্ধ অর্থ ছাড় এবং হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত বিষয়সহ কিছু শর্ত বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে তেহরান।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তের মধ্যে থাকা পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস করার দাবি ইরান ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
সানা/ডিসি/আপ্র/৩১/৫/২০২৬