গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মেনু

নারী মানেই অবরুদ্ধ ও নির্যাতিত-নিপীড়িত পোষমানা প্রাণী

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:০০ পিএম, ২২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২১:০২ এএম ২০২৬
নারী মানেই অবরুদ্ধ ও নির্যাতিত-নিপীড়িত পোষমানা প্রাণী
ছবি

ছবি সংগৃহীত

নারী হয়ে পড়েন কোনো বিশেষ ব্যক্তির গচ্ছিত আমানত। আর এই আমানতের ফলস্বরূপ নারী তার সবটাকে বিসর্জন দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুরুষ সেক্ষেত্রে নির্বিকার। তার বা এই গোষ্ঠীর জীবনাচরণে কোনোই পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় না। এমনকি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে তার যত অভ্যাস তিনি ঠিক ততটাই আষ্টেপৃষ্টে আঁকড়ে ধরতে চেষ্টা করেন। আবার তেমনই অনেক স্বাধীনচেতা পুরুষ নারীর ওপর ছেড়ে দেন যে, তাকে ভালো না লাগলে সঙ্গে না থাকুক তিনি তার কোনো অভ্যেসই ছাড়তে নারাজ। একই সঙ্গে যৌক্তিক প্রশ্ন থেকেই যায় তাহলে এই শ্রেণি কি স্ত্রী বা নারীর সব চাওয়া বা তার অভ্যসে বাধা দেন?

বেশির ভাগেরই উত্তর আসবে হ্যাঁ। তারা নিজেরা অর্থাৎ পুরুষ নিজে না পাল্টালেও নারীকে অবশ্যই পরিবর্তন হতে হবে। কারণ সে কারো বউ, বউমা, ভাবি, মামি, কাকি, চাচি, পিসি, মাসি ইত্যাকার সম্পর্কে জড়িত। ফলে নারীর মধ্যে আগের উচ্ছলতা, প্রাণবন্ততা, হাসি, মজার ক্ষেত্রে রেশ টানতে হয়। সর্বোপরি জীবনের পুরো ভূগোলটাই পরিবর্তন করতে হয়। কখনো চাপে পড়ে কখনো সংস্কার, প্রথা, কুসংস্কারের প্রেক্ষিতে।

একটি কথা আরেকটির জালে বন্দি ফলে নারীর প্রসঙ্গে বলতে গেলে প্রকৃতার্থে কোনটিকে আসলেই এড়িয়ে যাওয়া যাবে তা বলা মুশকিল। ফলে নারী মানেই এক অবরুদ্ধ, অবহেলিত,  নির্যাতিত,  নিপীড়িত পোষ মানা প্রাণী। যার নিজের কোনোই অস্তিত্ব থাকতে নেই। পিতা-ভাই-স্বামী-সন্তানের কাছে অবলা নির্জীব প্রাণহীন জড়বস্তুর মতো কোন এক পুতুল সদৃশ। তাই নারীকে ইচ্ছে মতো সাজানো যায়, শাসন-শোষণ করা যায়। দায় চাপিয়ে মুক্তি পাওয়া যায়। এই দায় প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কিছু বিষয়ের অবতারণা করতেই হয়-

নারীকে অবরুদ্ধ করে পরিবার-পরিজন সর্বোপরি সমাজ। নারী শৃঙ্খলে আবদ্ধ। কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া যাক, প্রথমত সমাজের ধারক-বাহক হিসেবে একজন নারী মূলত দুটি পরিবারকে কেন্দ্র করে বসবাস গড়ে ওঠে। জীবনের প্রথম পর্যায়ে অর্থাৎ শৈশব -কৈশোর এবং যৌবনের কিয়দংশ পিতার আশ্রয়ে বড় হয় মেয়েরা। তৎপরবর্তীকালে স্বামীর সংসারের অন্যতম ধারক-বাহক বা প্রতিপালক হিসেবে উপনীত হন। তবে এখনও অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার! ফলে তাদের জীবনের বেশিরভাগাংশই কাটে স্বামীর দাসীবৃত্তি করে।

দাসীবৃত্তি শব্দটির সঙ্গে আজকের সভ্যযুগে এসেও নারীমাত্রই পরিচিত।  কারণ প্রথমত নারীকে একজন পুরুষ যখন বিয়ে করেন তখন তিনি কিছু জিনিসের সার্টিফিকেট পেয়ে যান। প্রথমত. যৌন চাহিদা মেটানোর একজন পার্মানেন্ট সঙ্গী। দ্বিতীয়ত. গৃহকর্মে নিপুণা অবলা নির্জীব প্রাণী যিনি শত দুঃখ-কষ্টেও মুখে রা কাড়বেন না। ফলে পুরুষতন্ত্রের এই চাহিদানুযায়ী অভিভাবক শ্রেণিও তার কন্যা সন্তানকে প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন। বিয়ের পর স্বামীর আদর-যত্ন-আপ্যায়নে যেন কোনোই ত্রুটি না থাকে সেলক্ষে কন্যা সন্তানকে পড়াশোনা করানোর পাশাপাশি গৃহকর্মে নিযুক্ত করা হয়। যদিও সময়ানুযায়ী কিঞ্চিৎ পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে তবু আজও অধিকাংশের মনেই সুপ্ত বাসনা লালিত। ফলে নারী হতে হলে নিজের এবং পরিবার-পরিজনের দায়ভার তাকে সামাল দিতেই হবে।

এবার আসুন নারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া কিছু সংস্কার তথা কুসংস্কারের সীমানায়। আজও পুরুষতন্ত্রের ধারক-বাহকেরা মন ও মগজে ধারণ করেন পুরুষের কল্যাণের জন্য বিয়ের পর নারীর আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি। উদাহরণস্বরূপ বলা যাক, যদি কোনো নারী বিয়ের পর হাতে চুড়ি,  নাকে নাকফুল না পরেন তবে স্বামীর ক্ষেত্রে অশুভ হিসেবে ধরা হয়৷ যদি স্বামীর কোনোরকম অসুখ-বিসুখ হয় বা কোনো দুর্ঘটনার সম্মুখীন হন তবে সর্বপ্রথমে আঙুল তোলা হয় নারীর ওপর। তাকে নানাভাবে অপদস্ত করা হয়। যদিও পূর্বের সব নারীই এসব রীতিনীতি মেনে চলতে পটু ছিলেন তবে আধুনিকতার যুগে কিঞ্চিৎ নারী সমাজ এসব তুচ্ছ বিষয়কে আমলে নেন না। ফলে তারা যে আমলে নিচ্ছেন না এই বিষয়ে তাদের গোয়ার্তমিকেই দোষারোপ করা হয়! তবু আশ্চর্য হতে হয় এসব সংস্কার-কুসংস্কার বা প্রথার কোনোই পরিবর্তন হচ্ছে না, কিছু মানুষের কাছে। আর বলি হতে হয় কিছু যুক্তিবাদী, নির্বিবাদী নারীকে। ফলে তারাও নিজের ওপর থেকে তির্যক তীর ঠেকাতে গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসায়। এই উদাহরণ শুধু নাকফুল বা হাতের চুড়ির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয় এই পরিস্থিতি-পরিবেশ নানাবিধ সমস্যা-সংকট-প্রতিকূলতাকে এড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যম কিছু নারীর কাছে! তবে কী আজীবন নারীরা মেনে নেবে পরিবার-পরিজন-সমাজের যুক্তিহীন, কুসংস্কার-সংস্কার বা প্রথা নামক অপপ্রথাকে?

পরিবার-পরিজন-সমাজের এসব কপটতা, ভণ্ডামিকে গ্রাস করতে হলে নারীর গোয়ার্তুমিই প্রাধান্য পায়। কারণ কথায় আছে, সোজা আঙুলে ঘি ওঠে না। ফলে সমাজের আমূল পরিবর্তন আনতে হলে নারীকেও যুগের চাহিদা অনুযায়ী জীবন পরিচালিত করতে হবে। অর্থাৎ যুক্তি-বিচার-বিজ্ঞান এবং কল্যাণের পথে হাঁটতে হবে। একমাত্র মাথা নত করতে শিখতে হবে জ্ঞান-বিজ্ঞান-বিবেক-মনুষ্যত্ব-মানবিকতা এবং কল্যাণময় কাজের কাছে। শৃঙ্খলতার সব অপঘাতের বুকে পদাঘাতে জর্জরিত করুক নারী শক্তি। চেতনার অমেঘ বাণ বিদ্ধ করুক নারীর সৃজনশীল-মননশীল সত্তা। নারী হয়ে উঠুক আপন পথের দিশারী। জাগুক প্রাণ। গড়ুক পৃথিবী।

কেএমএএ/আপ্র/২২.০৭.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

শিক্ষা-জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার পরও নারীরা অসহায়-নিপীড়িত-নির্যাতিত
২২ জুলাই ২০২৬

শিক্ষা-জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার পরও নারীরা অসহায়-নিপীড়িত-নির্যাতিত

নারী আজও শিকল ছিঁড়ে বের হতে পারেননি। শিক্ষা-জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার পরও নারীরা অসহায়-নিপীড়িত-নির্যাতিত।...

শিশুর সুরক্ষা ছড়িয়েছে গৃহ-সমাজ থেকে ইন্টারনেট পর্যন্ত
২২ জুলাই ২০২৬

শিশুর সুরক্ষা ছড়িয়েছে গৃহ-সমাজ থেকে ইন্টারনেট পর্যন্ত

শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। কিন্তু তাদের এই ছোট ও সুন্দর জগৎটিকে নিরাপদ রাখা দিন দিন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হ...

একদিনের ছুটিতে ঘোরার জন্য ঢাকার পাশেই আছে কিছু স্থান
২২ জুলাই ২০২৬

একদিনের ছুটিতে ঘোরার জন্য ঢাকার পাশেই আছে কিছু স্থান

ব্যস্ত নগরজীবনের ক্লান্তি মেটাতে সপ্তাহান্তে বা একদিনের ছুটিতে ঢাকার আশপাশ থেকেই ঘুরে আসা যায় চমৎকার...

আয়রনম্যান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সাজিয়া
২২ জুলাই ২০২৬

আয়রনম্যান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সাজিয়া

ভোর হতে না হতেই শুরু হয় সাজিয়া সুলতানার নতুন দিনের লড়াই। একদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

জামায়াত এমপির বিয়ে নিয়ে বিতর্ক, বায়োডাটায় নতুন প্রশ্ন

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে তাঁর দাবিকৃত বিয়ের পাঁচ দিন পর স্বাক্ষর করা একটি বায়োডাটায় ওই তরুণীর বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন যে, এমপির দাবি ন্যায়সঙ্গত?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 5 ঘন্টা আগে