কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল একটি পরিবারের দায়িত্ব নয়; একটি সুস্থ, সুন্দর ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার মূল শর্ত। বর্তমান যুগে ঘর থেকে বের হয়ে বিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র কিংবা অনলাইন জগৎ- সব জায়গাতেই কন্যাশিশুর নিরাপত্তার বিষয়টি একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কন্যাশিশুর নিরাপত্তায় সামাজিক দায়িত্ব: কন্যাশিশু পরিবারের আনন্দ এবং সমাজের ভবিষ্যৎ। কিন্তু সহিংসতার ভয়, ইভ টিজিং, সাইবার বুলিং এবং বাল্যবিয়ে তাদের স্বাভাবিক বিকাশকে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরির জন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ভয়মুক্ত পরিবেশ: সন্তান যেন যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা নিঃসংকোচে অভিভাবকের কাছে প্রকাশ করতে পারে, সেই বিশ্বাস অর্জন করতে হবে।
সমঅধিকার চর্চা: ছেলে ও মেয়েশিশুর মধ্যে বৈষম্য দূর করে কন্যাশিশুকে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে হবে।
আত্মরক্ষা ও মানসিক প্রস্তুতি: কন্যাশিশুকে কেবল ‘রক্ষিত’ করার মানসিকতা থেকে বের হয়ে তাকে ‘আত্মরক্ষায় সক্ষম’ করে তোলা জরুরি।
শারীরিক প্রশিক্ষণ: বিদ্যালয় পর্যায়ে জুডো, কারাতে বা প্রাথমিক আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর ব্যবস্থা করা।
সাইবার বুলিং সচেতনতা: অপরিচিত কারো সাথে ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য শেয়ার না করার বিষয়ে সচেতন করা।
ইভ টিজিং ও বাল্যবিয়ে রোধ: পাড়া-মহল্লায় ইভটিজিং ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে সচেতনতা কমিটি গঠন করা।
কঠোর আইন প্রয়োগ: অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
একটি কথা মনে রাখতে হবে- কন্যাশিশুর নিরাপত্তা কেবল একটি প্রতিপাদ্য নয়, এটি তার মৌলিক অধিকার।” কন্যাশিশুকে কেবল সুরক্ষা নয়, তাকে একটি ভয়হীন আকাশ দিন- যেন সে তার নিজের শক্তিতে উঁকি দিতে পারে।
কেএমএএ/আপ্র/২২.০৭.২০২৬