শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। কিন্তু তাদের এই ছোট ও সুন্দর জগৎটিকে নিরাপদ রাখা দিন দিন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শুধু ঘরের চার দেয়াল নয়, বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশুর সুরক্ষার পরিধি ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেট ও সমাজ পর্যন্ত। তাই একটি শিশুর শারীরিক, মানসিক ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি।
গৃহস্থালি সুরক্ষা: শিশুরা সব সময় কৌতুহলী। তাই ঘরের প্রতিটি কোণ তাদের উপযোগী করে তোলা দরকার। তা হলো-
দুর্ঘটনা রোধ: ঘরের প্লাগ পয়েন্টগুলো মাল্টিপ্লাগ কভার দিয়ে ঢেকে রাখুন। ধারালো জিনিস, ওষুধ, ও পরিষ্কারক রাসায়নিক দ্রব্য শিশুদের হাতের নাগালের বাইরে আটকে রাখা।
আসবাবপত্র স্থির রাখা: বইয়ের তাক, টিভি বা ভারী আসবাবপত্র দেয়ালের সাথে শক্ত করে লাগিয়ে রাখা উচিত- যেন শিশু টেনে ফেলে না দেয়।
ব্যালকনি ও জানালা: ব্যালকনিতে উঁচু গ্রিল বা সুরক্ষা জাল ব্যবহার করুন। জানালায় নিরাপত্তার লক ব্যবহার করা আবশ্যক।
অনলাইন দুনিয়ায় সুরক্ষা: আজকাল শিশুরা খুব ছোটবেলা থেকেই স্ক্রিনের সংস্পর্শে আসে। সাইবার দুনিয়ায় শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। তা হলো-
স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ: বয়সের ভিত্তিতে স্ক্রিন দেখার সময় নির্ধারণ করুন এবং ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস দূরে রাখা।
প্যারেন্টাল কন্ট্রোল: ইউটিউব কিডস ব্যবহার করুন এবং বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন বা গেমিং অ্যাপে প্যারেন্টাল ফিল্টার চালু করে রাখা- যাতে অনাকাক্সিক্ষত কোনো বিষয় তাদের চোখে না পড়ে।
সাইবার বুলিং ও সচেতনতা: সন্তানকে বোঝান যে ইন্টারনেটে অচেনা কারো সাথে ব্যক্তিগত তথ্য (যেমন- নাম, স্কুলের নাম, ঠিকানা) শেয়ার করা যাবে না।
স্পর্শ সংক্রান্ত শিক্ষা (‘গুড টাচ’ এবং ‘ব্যাড টাচ’): শিশুকে নিজের শরীরের সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতন করা শিশুর নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ধাপ।
শরীরের গোপনীয়তা শেখানো: ছোটবেলা থেকেই শিশুদের শেখান যে তাদের পোশাকের ভেতরের অংশগুলো সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত।
‘না’ বলতে শেখানো: কেউ যদি স্পর্শ করার চেষ্টা করে এবং শিশু যদি অস্বস্তি বোধ করে, তবে তাকে জোর গলায় “না” বলতে এবং দ্রুত সেখান থেকে সরে এসে অভিভাবকদের জানাতে উৎসাহিত করুন।
ভয় না দেখিয়ে বোঝানো: সন্তানকে এমন পরিবেশ দিন যাতে সে কোনো খারাপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলে ভয় না পেয়ে আপনার কাছে খুলে বলতে পারে।
সামাজিক ও মানসিক সুরক্ষা: শারীরিক নিরাপত্তার পাশাপাশি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তা হলো-
বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করা: প্রতিদিন সন্তানের সাথে গল্প করুন। স্কুলে বা বাইরে কী ঘটছে তা বন্ধুর মতো শুনুন।
সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব: ভুল করলে অতিরিক্ত শাসন বা শারীরিক শাস্তি না দিয়ে বুঝিয়ে বলুন। অবহেলা বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ শিশুর আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়।
জরুরি যোগাযোগ: সন্তানকে নিজের নাম, পিতা-মাতার ফোন নম্বর এবং অন্তত একটি জরুরি নম্বর (যেমন: জরুরি সেবা ৯৯৯) মুখস্থ করিয়ে রাখা।
শিশুর সুরক্ষা শুধু অভিভাবকদের দায়িত্ব নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব। একটুখানি সচেতনতা, সতর্কতা এবং ভালোবাসা একটি শিশুকে দিতে পারে একটি সুন্দর, ভয়হীন ও নিরাপদ শৈশব।
কেএমএএ/আপ্র/২২.০৭.২০২৬