ব্যস্ত নগরজীবনের ক্লান্তি মেটাতে সপ্তাহান্তে বা একদিনের ছুটিতে ঢাকার আশপাশ থেকেই ঘুরে আসা যায় চমৎকার কিছু স্থানে। যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে একটু নিঃশ্বাস ফেলার জন্য ঢাকার কাছেই রয়েছে চমৎকার কিছু নান্দনিক স্পট।
ইটের শহরের ধোঁয়া আর জ্যামের ক্লান্তি কাটাতে ঢাকার কাছাকাছি প্রকৃতির ছোঁয়ায় কয়েকটি নান্দনিক ভ্রমণকেন্দ্র হলো-
পানাম নগর ও মেঘনা নদী (সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ): ইতিহাস ও প্রকৃতির এক অপূর্ব মিশ্রণ দেখতে চাইলে সোনারগাঁও হতে পারে সেরা পছন্দ।
নান্দনিকতা: চার শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহাসিক পানাম নগরের লাল ইটের তৈরি ইমারত আর তৎকালীন স্থাপত্যশৈলী আপনাকে এক ভিন্ন যুগে নিয়ে যাবে। এর পাশেই লোকশিল্প জাদুঘর এবং মেঘনা নদীর শান্ত পরিবেশ ভ্রমণের আনন্দ বাড়িয়ে দেয়।
দূরত্ব: ঢাকা থেকে মাত্র ৩০-৩৫ কিলোমিটার।
বিশেষ আকর্ষণ: প্রাচীন স্থাপত্যের ছবি তোলা, মেঘনা নদীতে ট্রলার ভ্রমণ এবং ঐতিহ্যবাহী জামদানি কারিগরি দেখা।
গোলাপ গ্রাম (সাদুল্লাপুর, সাভার): তুরাগ নদীর তীরে অবস্থিত সাদুল্লাপুর গ্রামটি সবার কাছে ‘গোলাপ গ্রাম’ নামেই পরিচিত।
নান্দনিকতা: গ্রামজুড়ে কেবল গোলাপের বাগান! চোখ যেদিকে যাবে, লাল গোলাপের সমারোহ। বিকেলে যখন লালচে সূর্যের আলো গোলাপ ক্ষেতের ওপর পড়ে, তখন তৈরি হয় এক মায়াবী দৃশ্য।
দূরত্ব: ঢাকা শহর থেকে প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার (মিরপুর দিয়াবাড়ী হয়ে যাওয়া সুবিধাজনক)।
বিশেষ আকর্ষণ: নদীতে ট্রলার রাইড, সুবিশাল গোলাপ বাগান ও তাজা ফুল কেনা।
জিন্দা পার্ক (পূর্বাচল): সবুজ আর শান্ত পরিবেশের জন্য জিন্দা পার্ক অন্যতম পছন্দের স্থান।
নান্দনিকতা: প্রায় ১৫০ একর জায়গা জুড়ে গড়ে ওঠা এই পার্কে রয়েছে হাজার হাজার গাছপালা, বিশাল লেক, ঝুলন্ত সেতু এবং কাঁচের ঘর। পার্কের পুরো নকশাই বেশ সুপরিকল্পিত ও নান্দনিক।
দূরত্ব: ঢাকা থেকে ৩০০ ফিট রাস্তা ধরে প্রায় ২৫-৩০ কিলোমিটার।
বিশেষ আকর্ষণ: নিরিবিলি প্রাকৃতির মাঝেই লেকের ধারে বসে থাকা, কাঁচের তৈরি অপূর্ব লাইব্রেরি ভবন এবং সবুজ মেঠোপথ।
সাফারি পার্ক (শ্রীপুর, গাজীপুর): বন্যপ্রাণী ও বিস্তৃত বনাঞ্চলের সৌন্দর্য একসাথে পেতে চাইলে যেতে পারেন গাজীপুরের সাফারি পার্কে।
নান্দনিকতা: শালবনের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়া বা সাফারি কোর বাসে চড়ে মুক্ত গণ্ডারে ঘুরে বেড়ানো বাঘ-সিংহ দেখার অভিজ্ঞতা রোমাঞ্চকর। এ ছাড়া বিশাল পাখিশালা ও প্রজাপতি পার্ক বেশ মনোরম।
দূরত্ব: ঢাকা থেকে প্রায় ৫০-৫৫ কিলোমিটার।
বিশেষ আকর্ষণ: অর্কিড হাউস, প্রাকৃতিক শালবন এবং মুক্ত সাফারি ভ্রমণ।
আড়িয়াল বিল (শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ): বর্ষা এবং শরৎকালে এক ভিন্ন রূপ ধারণ করে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই বিল।
নান্দনিকতা: চতুর্দিকে অপার জলরাশি আর ওপর খোলা আকাশ। বিশেষ করে শরতে শাপলা ফুল আর বর্ষার বিশাল জলরাশির ওপর সূর্যাস্তের দৃশ্য যেকোনো ভ্রমণপিপাসুর মন জয় করে নেবে।
দূরত্ব: ঢাকা থেকে প্রায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার।
বিশেষ আকর্ষণ: ট্রলার ও ডিঙি নৌকায় ভ্রমণ, তাজা তাজা তাজা দেশি মাছ খাওয়া এবং বিলের সূর্যাস্ত।
ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ-
সময় নির্বাচন: একদিনের ভ্রমণের জন্য সকাল সকাল বের হয়ে যাওয়া সবচেয়ে ভালো।
পরিবেশ রক্ষা: নান্দনিক এসব স্থানের সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্লাস্টিক বা আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলা থেকে বিরত থাকুন।
যাতায়াত: নিজস্ব পরিবহন বা রিজার্ভ করা গাড়ি নিয়ে গেলে যাতায়াত অনেক সহজ হয়।
কেএমএএ/আপ্র/২২.০৭.২০২৬