ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে মুকুল মল্লিককে হত্যার দায়ে তার স্ত্রী, কথিত প্রেমিকসহ তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত দায়রা জজ (দ্বিতীয়) আদালতের বিচারক গৌতম কুমার ঘোষ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন নিহতের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন, আলমগীর হোসেন ও বিল্লাল হোসেন। মামলার অপর দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল রাতে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন মুকুল মল্লিক। নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহ পর, ১৩ এপ্রিল হরিণাকুণ্ডু উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের বাঘমারা মাঠ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের মা আর্জিনা বেগম বাদী হয়ে হরিণাকুণ্ডু থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৬ জুন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন।
মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আলমগীর হোসেন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
সানা/আপ্র/২৬/৬/২০২৬