যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের শিকার ২০ শিশু-কিশোর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছে।
বুধবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে তাদেরকে হস্তান্তর করেন বলে জানান বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী।
ফেরত আসা শিশুরা বাগেরহাট, খুলনা, নড়াইল ও যশোর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এদের মধ্যে ১৩ জন মেয়ে ও সাতজন ছেলে।
এদের অধিকাংশই মা-বাবার সঙ্গে জেলে ছিল। তাদের সাজার মেয়াদ শেষ হলেও মা-বাবার সাজা এখনও শেষ হয়নি। তাদের মা-বাবা ভারতের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি আছেন।
ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, ফেরত আসা শিশু-কিশোররা ২০২৪ সালের প্রথম দিকে দালালের মাধ্যমে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে মা-বাবার সঙ্গে অবৈধভাবে ভারত যায়। পশ্চিবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় তাদের মা-বাবা বাসা-বাড়িতে এবং মাঠে কাজ করতেন।
অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে তাদের আটক করে ভারতীয় পুলিশ। পরে তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কারাগারে পাঠায় দেশটির আদালত।
সাজার মেয়াদ শেষে ভারতের একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠনের আবেদনে তাদেরকে পশ্চিমবঙ্গের কিশোলয়া, সুরকন্যাসহ সাতটি শেল্টার হোমে রাখা হয়।
পুলিশ পরিদর্শক মোর্তজা আলী বলেন, ফেরত আসা শিশুদের ট্রাভেল পারমিটসহ যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মানবাধিকার সংগঠন যশোরের ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’, ‘জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি’ ও ‘রাইটস’ এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সানা/আপ্র/১৪/৫/২০২৬