বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ব্যক্তি স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতার বাবা বলে জানা গেছে।
সোমবার (১১ মে) ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. আলম ফিটার মারা যান বলে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক জানিয়েছেন। এর আগে রোববার (১০ মে) দুপুরে উপজেলার বাদুরতলা গ্রামে সংঘর্ষের সময় তিনি গুরুতর আহত হন।
নিহত আলম ফিটার ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান মিয়ার বাবা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জমির সীমানা নির্ধারণ ও একটি নারিকেল গাছকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী আল-আমিন ও ইলিয়াসদের সঙ্গে আলম ফিটারের বিরোধ চলছিল। রোববার দুপুর দেড়টার দিকে এ বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে।
এ সময় প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাতে আলম ফিটার গুরুতর আহত হন। তাঁকে প্রথমে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে তাওহীদ, পুত্রবধূ আদুরি এবং স্ত্রী ফরিদা বেগম আহত হয়েছেন। তাঁরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের ছেলে ফোরকান মিয়া অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস আগে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলেও প্রতিপক্ষ তা মেনে নেয়নি এবং পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে নিহতের মেয়ে ফাতিমা আক্তার দাবি করেন, তাঁদের পরিবার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চাপ ও হুমকির মধ্যে ছিল এবং এরই ধারাবাহিকতায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
সানা/আপ্র/১২/৫/২০২৬