ঐতিহ্য ও ইতিহাসে সমৃদ্ধ সুন্দরবনঘেঁষা খুলনা জেলার জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে জনতার ঢল নামে। তীব্র গরম ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংস্কৃতিকর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে দিনটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রখর রোদ ও দাবদাহের মধ্যেই শুরু হয় কর্মসূচি। ঢাক-ঢোল ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়, যা শিববাড়ি মোড় এলাকায় মিলনমেলায় পরিণত হয়। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছিল দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবেও বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, নগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা এবং নগর জামায়াতে ইসলামের আমির অধ্যাপক মো. মাহাফুজুর রহমান।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮৪২ সালে ভৈরব ও রূপসা নদীবিধৌত নয়াবাদ থানা ও কিসমত খুলনাকে কেন্দ্র করে নতুন জেলার সদর দপ্তর স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক বিস্তার ও ভৌগোলিক গুরুত্বের কারণে খুলনার গুরুত্ব বাড়তে থাকে। ১৮৮২ সালের ২৫ এপ্রিল গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা জেলা প্রতিষ্ঠা পায়। সে হিসাবে এ বছর জেলাটির ১৪৪তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। এর আগে খুলনা যশোর জেলার একটি মহকুমা ছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে ডব্লিউ এম ক্লে জেলার প্রথম ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়, যা পুরো আয়োজনকে আরও বর্ণিল করে তোলে।
সানা/আপ্র/২৬/৪/২০২৬