শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি বন বিভাগের গেজেটভুক্তি থেকে অবমুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ৭১ দফা ঘোষণা উপস্থাপন করে।
রোববার (২০ এপ্রিল) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া গরুরহাট এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশন, শ্রীপুর সাহিত্য পরিষদ এবং শ্রীপুর পৌর সচেতন নাগরিক ফোরামসহ কয়েকটি সংগঠন।
নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মিসকাত রাসেলের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা কলেজের অধ্যাপক এমদাদুল হক, শ্রীপুর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি রানা মাসুদ এবং ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিনসহ অনেকে। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের একাধিক স্মারকের নির্দেশনা অনুযায়ী গেজেটভুক্ত বনের সঙ্গে একই দাগে আংশিক ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থাকলে ১৯২৭ সালের বন আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত ওই জমির হস্তান্তর, নামজারি ও রাজস্ব আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
অভিযোগ করা হয়, বন বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে খাজনা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি রাজস্ব বিভাগ খাজনা গ্রহণ করছে না। ফলে জমির মালিকরা নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে জটিলতার মধ্যে পড়েছেন।
বক্তারা আরো বলেন, সিএস, এসএ, আরএস রেকর্ড এবং নামজারি থাকা সত্ত্বেও অনেক জমির মালিক তাদের বৈধ অধিকার ভোগ করতে পারছেন না। বন বিভাগ আদালতে মামলা করে হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হলেও বাস্তবে গাজীপুরের অনেক এলাকায় ২০ ধারা অনুযায়ী চূড়ান্ত সমাধান কার্যকর হয়নি। এতে জমির মালিকরা ঘরবাড়ি নির্মাণ, গাছ রোপণ কিংবা জমি বিক্রির মতো স্বাভাবিক কার্যক্রমও করতে পারছেন না।
বক্তারা দাবি করেন, বন গেজেটভুক্তি থাকার কারণে ব্যক্তি মালিকরা নিজেদের জমিতে উন্নয়ন কার্যক্রম চালাতে বাধার মুখে পড়ছেন এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি দ্রুত সমস্যা সমাধান এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি গেজেট থেকে অবমুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৯/৪/২০২৬