গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মেনু

বিলুপ্তির পথে পিরোজপুরের মৃৎশিল্প

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৪৩ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০৭:২৬ এএম ২০২৬
বিলুপ্তির পথে পিরোজপুরের মৃৎশিল্প
ছবি

মাটির তৈরি খেলনার চাহিদা কমে যাওয়া এবং প্লাস্টিক পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার এই শিল্পকে সংকটে ফেলেছে -ছবি সংগৃহীত

প্রায় দুই শত বছর আগে পিরোজপুর জেলার কাউখালীর সোনাকুড়ে শতাধিক পরিবারের মাধ্যমে শুরু হওয়া মৃৎশিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। এক সময় এ শিল্প জেলার সদর, মঠবাড়িয়া ও নাজিরপুর এলাকায় ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করলেও বর্তমানে তা সীমিত হয়ে পড়েছে কাউখালীর সোনাকুড়, সদর উপজেলার পালপাড়া, মূলগ্রাম ও রানীপুর এলাকায়।

এক সময় বাঙালির ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে মৃৎশিল্পীরা বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করতেন। মাটির খেলনা, পুতুল, হাঁড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি ও বিক্রিতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে বর্তমানে সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে খেলনা ও শৌখিন সামগ্রী তৈরি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এখন শুধুমাত্র দইয়ের হাঁড়ি, সরা এবং কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় তৈজসপত্র তৈরি করা হচ্ছে।

স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা জানান, মাটির তৈরি খেলনার চাহিদা কমে যাওয়া এবং প্লাস্টিক পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার এই শিল্পকে সংকটে ফেলেছে। পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, শ্রমমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব এবং সহজ শর্তে ঋণ না পাওয়ায় অনেক পরিবার এই পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

পিরোজপুরের মূলগ্রাম এলাকার বীরেন পাল জানান, এক সময় কয়েকশত পাল পরিবার এই পেশায় যুক্ত ছিল। এখন অধিকাংশই অন্য পেশায় চলে গেছে। পহেলা বৈশাখের সময় যে ব্যস্ততা থাকত, তা এখন আর নেই। প্লাস্টিক পণ্যের কারণে মাটির পণ্যের চাহিদা কমে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

একই এলাকার অরুণ পাল জানান, আগে বৈশাখী মেলায় বিভিন্ন মাটির পণ্য তৈরি করে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করতে হতো। এখন শুধুমাত্র দইয়ের হাঁড়ি ও কিছু বাসন তৈরি করা হয়। উৎপাদিত পণ্যের যথাযথ দাম না পাওয়ায় অনেকে এ পেশা ছাড়ছেন।

রাণীরপুর এলাকার তপন পাল জানান, খরচ বৃদ্ধি ও বাজার সংকটের কারণে নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আসতে আগ্রহী নয়। অনেকেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই শিল্প টিকে থাকতে পারে বলে তিনি মত দেন।

অন্যদিকে, ঝর্ণা রানী নামের এক শ্রমিক জানান, সারাদিন কাজ করেও সামান্য আয় হয়, যা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঐতিহ্যবাহী এই মৃৎশিল্প রক্ষায় সরকারি প্রণোদনা ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে পিরোজপুরের শতাব্দীপ্রাচীন এই মৃৎশিল্প অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
সানা/আপ্র/১৭/৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

কুড়িগ্রামে সড়ক মেরামতের পাশাপাশি নারীর কর্মসংস্থানে এলজিডি
২৯ জুলাই ২০২৬

কুড়িগ্রামে সড়ক মেরামতের পাশাপাশি নারীর কর্মসংস্থানে এলজিডি

আশির্বাদ রহমান: দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা সড়ক, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং সীমিত কর্মসংস্থানের কারণে কুড়িগ্...

কর্ণফুলী টানেলে চার রাত এক টিউবে চলবে যানবাহন
২৯ জুলাই ২০২৬

কর্ণফুলী টানেলে চার রাত এক টিউবে চলবে যানবাহন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: কর্ণফুলী টানেলে রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী চার রাত নিয়ন্ত্রিতভাবে যান...

প্রশাসনের আশ্বাসে বাগেরহাটে খাল দখলমুক্ত আন্দোলন সাময়িক স্থগিত
২৯ জুলাই ২০২৬

প্রশাসনের আশ্বাসে বাগেরহাটে খাল দখলমুক্ত আন্দোলন সাময়িক স্থগিত

বাগেরহাট জেলার সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে চলা তিন দিনব্যাপী অবস্থ...

চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা
২৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা

একেএম ফজলুল হক: বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহয...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 7 ঘন্টা আগে