বাগেরহাটের হযরত খানজাহান (রহ)-এর মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্ককে আক্রান্ত ছিল। কুকুরটিকে ইচ্ছেকৃতভাবে ‘কুমিরের মুখে ঠেলে দেওয়া’ বা ‘বেঁধে টোপ হিসেবে কুমিরকে কুকুর দেওয়ার’ যে অভিযোগ উঠেছিল তার কোনও সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি।
ঘটনাটি তদন্তে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনে গঠন করা তিন সদস্যের কমিটি বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিল করা প্রতিবেদন এমন তথ্য দেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তদন্ত শেষে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
তবে তদন্তে কুকুরকে ইচ্ছে করে কুমিরের মুখে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কুকুরটি দুর্ঘটনাবসত দীঘিতে পড়ে যায়। এ ছাড়া প্রাণিটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল।
এর আগে ৮ এপ্রিল বিকালে মাজারের দিঘির প্রধান ঘাট থেকে একটি কুকুরকে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায় কুমির। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ১১ এপ্রিল বিকালে মাজার এলাকায় জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধায়নে কুকুরটি ময়নাতদন্ত করা হয়। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি-সিডিআইএল। বুধবার জেলা প্রাণিসম্পদ সিডিআইএলের প্রতিবেদন হাতে পায়।
ইউএনও আতিয়া খাতুন বলেন, ঘটনার দিন কুকুরটি একাধিক মানুষকে কামড় দিয়েছে। মাজারের নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকান টিকা নিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে আমরা সে প্রমাণও সংগ্রহ করেছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রাণিপ্রেমীদের যে অভিযোগ ছিল, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বা টোপ দেওয়া হয়েছে বলে তার প্রমাণ মেলেনি।
তদন্ত কমিটির সদস্য বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, সিডিআইএল থেকে পাওয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে ভুগছিল। ওই কুকুর যাদের কামড়েছে তারাও জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে কুকুর দ্বারা আক্রান্তরা ভ্যাকসিন নিয়েছেন।
তবে জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুরকে কামড়ানোর কারণে কুমিরের কোনো ঝুঁকি আছে কি-না, জানতে চাইলে মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, কুমিরের আসলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই। কারণ কুমির হিংস্র প্রাণি। তাই তার জলাতঙ্ক আক্রান্ত হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই। তবে যেসব মানুষকে কামড়েছে, তারা টিকা না নিলে ঝুঁকি আছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, কুমিরের আক্রমণে কুকুরের মৃত্যু নিয়ে নানা অভিযোগ আসছিল এনিমেল লাভারদের পক্ষ থেকে। তাদের অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেই। তারা তদন্ত শেষে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেই প্রতিবেদনে অনুযায়ী কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি।
সানা/আপ্র/১৭/৪/২০২৬