আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন শপিংমল ও বিপণি বিতানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কর্মব্যস্ত মানুষরা সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়াও সপ্তাহজুড়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে কেনাকাটায় বের হওয়ায় মার্কেটগুলোতে বাড়ছে ক্রেতার চাপ। তবে ভিড়ের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পোশাকের দাম গত বছরের তুলনায় ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা অসন্তোষও দেখা গেছে ক্রেতাদের মধ্যে।
শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা, ইয়াকুব আলী মাস্টার টাওয়ার, মালেক মাস্টার মার্কেট, ভাই ভাই সিটি কমপ্লেক্স এবং শ্রীপুর সদরের নুর ইসলাম খান কমপ্লেক্স, বনলতা সুপার মার্কেট ও জিন্নাত সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন বিপণি বিতানে সকাল থেকেই ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। দুপুরের পর এসব এলাকায় মানুষের ঢল নামে।
দোকানগুলোতে পোশাক, জুতা, কসমেটিকসসহ ঈদসামগ্রীর কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতারা। পরিবারের সদস্যদের জন্য থ্রি-পিস, স্যুট, শাড়ি, পাঞ্জাবি ও শিশুদের পোশাক কিনতে ভিড় করতে দেখা যায় অনেককে।
ক্রেতারা জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে মার্কেটের ভিড়। অনেকেই অফিসের ব্যস্ততার কারণে অন্য সময় বের হতে পারেন না। তাই ছুটির দিনগুলোতেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন।
মাওনা চৌরাস্তার ইয়াকুব আলী মাস্টার টাওয়ারে কেনাকাটা করতে আসা শামসুদ্দিন নামের এক ক্রেতা বলেন, “পরিবারের সবার জন্য কাপড় কিনতে এসেছি। কিন্তু বেশিরভাগ দোকানেই দাম অনেক বেশি বলা হচ্ছে। দরদাম না করলে কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
আরেক ক্রেতা সালমা আক্তার বলেন, “ভিড়ের কারণে অনেক দোকানে স্বাচ্ছন্দ্যে পণ্য দেখা যায় না। তারপরও ঈদের আনন্দে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি।”
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতার চাপ বেশি থাকে। ঈদের আগে এই সময়টাতে বিক্রি তুলনামূলক ভালো হয়। ভাই ভাই সিটি কমপ্লেক্সের এক বিক্রেতা জামাল বলেন, “গত কয়েকদিন বিক্রি কিছুটা কম ছিল। কিন্তু ছুটির দিনে হঠাৎ করে ক্রেতার চাপ বেড়ে যায়। অনেকেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসছেন।”
ব্যবসায়ীদের দাবি, পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়নি। পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তারা আশা করছেন, ঈদের আগের শেষ সপ্তাহে মার্কেটগুলোতে ক্রেতার ভিড় আরও বাড়বে এবং কেনাবেচাও জমে উঠবে।
শিশুদের পোশাকের দোকানগুলোতেও দেখা গেছে বাড়তি ভিড়। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা নিজেরাই পছন্দের পোশাক বেছে নিচ্ছে। কারও চোখে সুপারহিরোর ছবি, আবার কারও পছন্দ রাজকন্যার গাউন। অভিভাবকেরা বাজেট সামলে সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছেন।
তবে কেনাকাটার ভিড়ের মধ্যেও নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন ক্রেতা। এক নারী ক্রেতা জানান, “ভিড়ের মধ্যে অনেক সময় অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। কেউ কেউ সুযোগ নিয়ে অসভ্য আচরণ করে, এতে স্বাভাবিকভাবে কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়ে।”
ক্রেতাদের অভিযোগ, অনেক মার্কেটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নেই এবং নারী নিরাপত্তাকর্মীরও অভাব রয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়লেও অনেক নারী সরাসরি অভিযোগ জানাতে দ্বিধা বোধ করেন।
এ ছাড়া ট্রায়াল রুমের সংকটও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক দোকানে পর্যাপ্ত ট্রায়াল রুম না থাকায় নারীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আবার কিছু দোকানে ট্রায়াল রুমের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতারা।
তবে বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের মৌসুমে ক্রেতার চাপ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হলেও অধিকাংশ মার্কেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সানা/আপ্র/১৪/৩/২০২৬